সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ মে, ২০১৬ ২২:০৯

‘সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের বিবৃতি

শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করিয়ে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

বিবৃতিতে তারা এই ঘটনায় দায়ি সাংসদ সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এই সাংসদসহ এই ঘটনায় জড়িত সকলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়।

বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিগুলোকে নিয়ে গঠিত এই ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের স্বাক্ষরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে  বলা হয়, “স্থানীয় সাংসদ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই এই চূড়ান্ত অসভ্যতা, বর্বরতা ও বেআইনি ঘটনাটি ঘটেছে।”

আরও পড়ুন- ফেসবুক জুড়ে ‘সরি স্যার’

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের দাবি, শিক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করা হোক।

“আমরা এরূপ জঘন্য ঘটনায় জড়িত সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনারও আহ্বান জানাই। এর অন্যথা হলে শিক্ষক সমাজ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”

গত ১৩ মে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যানদী গ্রামের স্কুলটিতে  শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার ওই ভিডিওতে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে কান ধরে উঠ-বস করতে নির্দেশ দিতে দেখা যায়।

বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য। তিনি বিকেএমইএর সভাপতি, পাশাপাশি তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজেরও সভাপতি।

তার ভাই এ কে এম শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তাদের আরেক ভাই নাসিম ওসমানও সংসদ সদস্য ছিলেন। নাসিম মারা যাওয়ার পর ওই আসনে সংসদ সদস্য হন সেলিম।  

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সেলিম ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে মারধর করে ও অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। খবর শুনে তিনি গিয়ে ওই শিক্ষককে ‘উদ্ধার’ করেন।

যদিও যে ছাত্রের বরাত দিয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয় দশম শ্রেণীর সেই ছাত্র রিফাত বলেছে, শিক্ষক তাকে ধর্ম নিয়ে কোন কটু কথা বলেন নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত