সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ মে, ২০১৬ ০৭:৪০

‘এমপির ভূমিকায় মনে হচ্ছে তিনিই শিক্ষক আর শ্যামলকান্তি দুষ্ট ছাত্র’

নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতি উল্লেখ করে, এমপির ভূমিকায় মনে হয়েছে যেন তিনিই প্রধান শিক্ষক আর শ্যামল কান্তি তার দুষ্ট ছাত্র।

মঙ্গলবার (১৭ মে) সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।

তারা বলেন, আমরা এরূপ জঘন্য ঘটনায় জড়িত সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনারও আহ্বান জানাই। এর অন্যথা হলে শিক্ষক সমাজ তা কোনোভাবেই মেনে নেবেনা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়য়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে গত শুক্রবার দুপুরে তাকে লাঞ্ছিত, মারধর ও কানধরে উঠবস করানো হয়। স্থানীয় সাংসদ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই এই চূড়ান্ত অসভ্যতা, বর্বরতা ও বেআইনি ঘটনাটি ঘটেছে।

এতে বলা হয়, এমপির ভূমিকায় মনে হয়েছে যেন তিনিই প্রধান শিক্ষক আর শ্যামল কান্তি তার দুষ্ট ছাত্র। শেষ পর্যন্ত কান ধরে ওঠবস করতে করতে সেই শিক্ষক জ্ঞান হারিয়েছেন। এখন তিনি হাসপাতালে। চিকিৎসা হয়তো তাকে শারীরিক স্বস্তি দেবে। কিন্তু তার মনের অবস্থাটা কী তা সহজেই বোধগম্য।

শিক্ষক নেতারা বলেন, তিনি যদি কোনো অপরাধও করে থাকেন তার জন্য দেশে প্রচলিত বিধান ও আইন আছে। সাংসদের মতো একজন দায়িত্বশীল (!) ব্যক্তির কাছ থেকে এধরনের ঘৃণ্য আচরণ আমাদের কাছে কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়-জাতি তাকে আইন নিজ হাতে তুলে নেয়ার ক্ষমতা দেয়নি।

তারা বলেন, জাতির বিবেক একজন শিক্ষকের সাথে এরূপ নির্মম লজ্জাজনক আচরণে গোটাজাতি লজ্জিত ও স্তম্ভিত। সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যে ধারা শুরু হয়েছে এরূপ ঘটনা তারই ভয়াবহ রূপ বলে আমরা মনে করি। আমরা এ ঘটনায় তীব্র  নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত