অনলাইন প্রতিবেদক

১৯ মে, ২০১৬ ০১:২৯

সেলিম ওসমানের হুমকি, গালাগাল, অশ্রাব্য কথার ফোনালাপ ফাঁস (অডিও)

নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠ-বস করিয়ে দেশজুড়ে তীব্র নিন্দিত সাংসদ সেলিম ওসমানের হুমকি ধামকি, গালাগাল আর অশ্রাব্য কথাবার্তার এক অডিও ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া ফোনালাপের পুরোটা জুড়েই সেলিম ওসমানের উদ্ধত প্রকাশ পেয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশ করার অযোগ্য ভাষার ব্যবহার রয়েছে অজস্র। অডিও শুনতে ক্লিক করুন (অপ্রাপ্ত বয়স্কদের এটি শুনতে নিরুৎসাহিত করা হল)

মোবাইল ফোন সংলাপে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির জেলা প্রতিনিধি নাফিজ আশরাফের সাথে কথা বলতে শোনা গেছে তাকে। এই সাংবাদিকের চাকরি খাওয়ারও হুমকি দেন জাতীয় পার্টির এই সাংসদ। যার ভাই শামীম ওসমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সাংসদ।

অডিওতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হালিম আজাদকে ইঙ্গিত করে সেলিম ওসমান বলেন, “যে শামীম ওসমানরে খুনি বলছে, তারে সভাপতি পদে বসায় রাখছেন। …… আর মাসুদ নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে খারাপ পোলা? মিটিংয়ে বলছেন, আমার কাছ থেকে সম্মতি লইয়া মাসুদরে বহিষ্কার করা হইছে।”

প্রেস ক্লাবের সবাই ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে ‘লেগেছে’- সেলিমের এমন অভিযোগ শুনে নাফিজ বলছিলেন, “দুই তিনজন ছাড়া বাকিরা আপনাদের দুই ভাইকে কাভারেজ দিই।”

তখন সেলিম ওসমান আরও উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, “কাভারেজ দিয়েন না আজকে থেকে। আমি কাভারেজের … মারি। কাভারেজ যাবে আমার কালের কণ্ঠ আছে, কাভারেজ যাবে যুগের চিন্তা আছে। কালের কণ্ঠ আপনার এখানে সদস্যপদই পায় না!

“এনটিভি দিয়া কাভারেজ দিবেন না আপনি? আমি নতুন সাংবাদিক বহায়া দিমু কালকা। না পারলে কালকে ... যায়েন আমার মুখে।”

আলাপের পুরোটা সময় নাজিফের কণ্ঠস্বর ছিল সীমিত, তাঁর সাথে ওসমান পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ বিষয়টিও উঠে এসেছে ফোনালাপে।


এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ‘ত্বকী মঞ্চের’ সদস্যসচিব হালিম আজাদ ও প্রথম আলোর প্রতিনিধি আসিফ হোসেনের বিষয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন সেলিম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা রফিউর রাব্বির ছেলে ত্বকীকে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ হত্যা করা হয়। এ ঘটনার জন্য সেলিম ওসমানের ভাই শামীম ওসমানসহ বেশ কয়েকজনকে দায়ী করে আসছেন ত্বকীর বাবা।

ত্বকী মঞ্চের প্রতি আক্রোশ প্রকাশ করে সেলিম ওসমান বলেন,  “হেই ত্বকী মঞ্চ লইয়া ৩২টি মিটিং করছে, একটাতেও হামলা হয় নাই। আমি প্রতিশোধ পরায়ণ না, প্রতিশোধ পরায়ণ হলে আসিফ বাইচা থাকতে পারতো না।”

গত ১৩ মে বিকেলে ধর্ম অবমাননার উড়ো অভিযোগ রটিয়ে  নারায়ণগঞ্জের  কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ ও জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমান। সেলিম ওসমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসীর রোষ থেকে তাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ভিডিওতে দেখা যায় সাংসদ সেলিম ওসমান নিজেই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করে শাস্তি দিচ্ছিলেন।

এই ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এসব ক্ষোভের মধ্যেই অবশ্য লাঞ্ছিত শিক্ষককে বরখাস্ত করে বিদ্যালয় কমিটি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এই বিষয়ে নিন্দা জানালেও সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি সরকার। বুধবার হাইকোর্ট স্ব-প্রনোদিত হয়ে এই বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেয়া হল না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।


অডিও তথ্য সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

আপনার মন্তব্য

আলোচিত