সিলেটটুডে ডেস্ক

১৯ মে, ২০১৬ ২৩:১৩

এবার শিক্ষিকাকে পেটালেন আওয়ামীলীগ নেতা

ঢাকার ধামরাইয়ে ১১নং পশ্চিম সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফৈয়জিয়া ইয়াছমিনকে মারধরসহ শারিরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মালেক নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই শিক্ষিকা। বুধবার উপজেলার ১১ নম্বর পশ্চিম সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পশ্চিম সূত্রাপুর গ্রামের ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফৈয়জিয়া ইয়াছমিন সহকারি শিক্ষকদের নিয়ে অফিসকক্ষ পরিবর্তন করেন গত সোমবার। অন্য একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন তিনি। এ নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিজ নাসিমা ও সহকারী শিক্ষক আক্তার হোসেনের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।

এতে বুধবার সকালে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেককে ডেকে আনেন ওই দুই শিক্ষক। এ সময় আবদুল মালেক প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে মারতে যায়। এ সময় তিনি ভয়ে শ্রেণীকক্ষের টয়লেটের ভিতরে আশ্রয় নেন। পরে টয়লেটের ভিতর থেকে ওই প্রধান শিক্ষক ইয়াছমিন আক্তারকে টেনে হেঁছড়ে বেড় করেন তারা। এ সময় ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী মুহাম্মদ ফজলুর রহমানের উপস্থিতে এবং সব শিক্ষার্থীর সামনে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্চিত করেন আব্দুল মালেক।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা ফৈয়জিয়া ইয়াছমিন বলেন, স্কুলের সহসভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক ও তার স্কুলের দুই সহকারী শিক্ষক তাকে টয়লেটে ভিতর থেকে টেনে হেঁছড়ে বের করেন। তারা আমাকে সভাপতি ও শিক্ষার্থীদের সামনে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন যেকোনো সময় তার ওপর হামলার আশংকা রয়েছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষিকা।

সূত্রাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহসভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক জানান, প্রধান শিক্ষিকা উল্টো তাকে ও দুই সহকারি শিক্ষককে মারধর করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দৌলতর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে আমি গিয়েছিলাম প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে জেলা অফিসারকে অবহিত করেছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত