১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:৩২
আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মহত্যা করা জঙ্গি তানভির কাদেরী বসুন্ধরা এলাকার জঙ্গিদের গোপন আস্তানায় থাকত, যেখানে ছিল জঙ্গি নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরীও।
আহত অবস্থায় আটক তানভীরের স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা এলাইস খাদেজা কাউন্টার টেররিজম ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের গোয়েন্দাদের কাছে এই তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মুহিবুল ইসলাম বলন, "গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিমসহ তার অনুসারি সব জঙ্গিরাই বসুন্ধরা এলাকার ই ব্লকে ছয় নম্বর রোডের বাড়িতে থাকত বলে আমরা জানতে পেরেছি।"
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা খাদেজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য জানা গেছে বলে যোগ করেন তিনি।
একই বাসায় থাকলেও জঙ্গি নেতা তামিম বা অন্য কোন পুরুষ জঙ্গিদের সাথে কখনো কথা হয়নি বলে জানায় খাদেজা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশের অভিযানের সময় চোখে মরিচ ছিটিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করে খাদেজাসহ তিন নারী জঙ্গি আর নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে নিহত হয় খাদেজার স্বামী জঙ্গি তানভির।
জানা গেছে, খাদেজা বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনের কোর্পরেট পার্টনারশিপ বিভাগের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়া খাদেজা বেসরকারি সংস্থাটির উচ্চ পদেই চাকরি করত বলে জানান সংস্থাটির যোগাযোগ শাখার সিনিয়র ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুম।
এদিকে জানা গেছে ২০১৪ সালে হজ করে সৌদি আরব থেকে আসার পরেই ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে তানভির-খাদেজা দম্পতির। ওই সময়ের পর থেকেই তারা জীবনাচার বদলাতে শুরু করে।
তানভিরের দাদা পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে তাবলিগে এসে গাইবান্ধায় বিয়ে করে স্থায়ী হন। তার বাবা আব্দুল বাতেন কাদেরি ছেলে ও পুত্রবধূর এই বদলে হতবাক বলে জানিয়েছেন। তারা কোন অপরাধী মনের ছিল না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এই দুজনকে যারা ব্রেণওয়াশ করেছে তাদের বিচার দাবি করেন।
সূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার
আপনার মন্তব্য