১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:১৮
চুরি যাওয়া বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থের পুরোটা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং থেকে উদ্ধার হওয়া ১ কোটি ৫২ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার পর বাকি অর্থ ফেরতের আশা জোরালো হয়েছে। পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে উচ্চ পর্যায়ের একটি দল ফিলিপাইনে যাবে।
রোববার (১৩ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। এ সময় ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা ও বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত শুক্রবার বাংলাদেশকে ফেরত দেওয়া এক কোটি ৫২ লাখ ডলার সোম বা মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে জমা হতে পারে বলেও জানান রাজী হাসান।
রাজী হাসান বলেন, ফিলিপাইনের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু অর্থ ফ্রিজ করা আছে। এটি বাংলাদেশকে ফেরত দিতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এসব বিষয়ে আলোচনা এবং মূল্যায়নের জন্য দেশটির দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের দল ম্যানিলা সফর করবে।
তিনি বলেন, ফিলিপাইনের আদালত গত ১৬ সেপ্টেম্বর চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অংয়ের নগদে ফেরত দেওয়া ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং ৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার পেসো বাংলাদেশের অনুকূলে ফেরত দেওয়ার আদেশ দেয়।
রাজি হাসান বলেন, ১০ নভেম্বর ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বিএফআইইউ’র কর্মকর্তাদের কাছে পেসো ও ডলার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়, যা একই তারিখে বাংলাদেশ দূতাবাসের হিসাবে জমা করা হয়।
“জমা করা পেসো ও ডলার সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে দূতাবাসের হিসাব থেকে সকল প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করা হবে।”
ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা পেসো ও ডলার ফেরতের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ এবং যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব গত ৭ নভেম্বর সেখানে যান। এরপর ৯ নভেম্বর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এফআইইউ, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ও রিজিওনাল কোর্টের শেরিফের সঙ্গে ম্যানিলায় বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সভা করেন। ওই সভায় অর্থ হস্তান্তরের বিষয় চূড়ান্ত আলোচনা হয়।
অর্থ উদ্ধারে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত যে সহযোগিতা করেছে এবং করছে তাতে মনে হয় না মামলা করার প্রয়োজন পড়বে। তারপরও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল আলোচনা শেষে দেশে ফেরার পর বিষয়টি বোঝা যাবে। পুরো অর্থ ফেরত পেতে কতদিন লাগবে সেটিও এ আলোচনা শেষে বোঝা যাবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, ফিলিপাইনের বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ঢুকেছিল এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এসব হিসাবে জমা আছে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কিছু বেশি। এছাড়া চুরির অর্থ ভাঙিয়ে দেওয়ার অপরাধে লাইসেন্স বাতিল হওয়া মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের কাছে রয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অংয়ের কাছে আরও ৬০ লাখ ডলার রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় এসব অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফিলরেমের কাছে থাকা এক কোটি ৭০ লাখ ডলার ফেরতের বিষয়ে শিগগিরই ফিলিপাইনের আদালতে মামলা করতে পারে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল ফিলিপাইনে। ওই অর্থের দেড় কোটি (১৫ মিলিয়ন) ডলার শনিবার ফেরত দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই অর্থ জুয়ার টেবিলে চলে গিয়েছিল, এক ক্যাসিনো মালিক তদন্তের মুখে তা ফেরত দেয়।
সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়েছিল। একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। অন্যদিকে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেওয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। এর একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের জুয়ার টেবিলে চলে যায়।
আপনার মন্তব্য