সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:৫৭

রিজার্ভ চুরি : দেড় কোটি ডলার ফেরত পেল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ফেরত দিয়েছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ। রিজার্ভ চুরির নয় মাস পর মোট অর্থের এক-পঞ্চমাংশের কম অর্থ ফেরত পেল বাংলাদেশ।

শুক্রবার ফিলিপাইনের একটি আদালত তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ১৫ মিলিয়ন (দেড় কোটি ডলার) বাংলাদেশ ব্যাংককে দিতে নির্দেশ দেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই সদস্যের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে এ অর্থ গ্রহণে করেন ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ।

শুক্রবার, শনিবার বাংলাদেশের ব্যাংক ও রোববার ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে গৃহীত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে আগামী সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে জমা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ফিলিপিন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ আগেই জানিয়েছিলেন, একটি ক্যাসিনোর মালিক কিম অং এবং তার ইস্টার্ন হাওয়াই লেজার কোম্পানির ফেরত দেওয়া দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল।

ক্যাসিনো মালিক অং দুই দফায় অর্থ ফেরত দেন, যা তিনি দুইজন চীনা জুয়াড়ির কাছ থেকে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

গত সেপ্টেম্বরে ফিলিপিন্সের আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে এই দেড় কোটি ডলারের মালিক স্বীকৃতি দিয়ে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরই অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ফিলিপাইনের একটি আদালত সেপ্টেম্বর মাসে সিদ্ধান্ত দেন, ক্যাসিনো বস কিম ওয়ং এবং তার ইস্টার্ন হাওয়াই কম্পানির জমা দেওয়া অর্থের বৈধ মালিক বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের কাছে দুই দফায় প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছেন কিম ওয়ং। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়নের মধ্যে কয়েক মিলিয়ন দুই চীনা নাগরিকের মাধ্যমে তার হাতে আসে।

উল্লেখ্য, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার চুরির ঘটনা। এ নিয়ে বিশ্বের আন্তব্যাংক লেনদেনে উদ্বেগ দেখা দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়।

এর মধ্যে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ৮১ মিলিয়ন ডলার।

আরেকটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।

রিজল ব্যাংকে যাওয়া টাকার একটি বড় অংশ পরে ফিলিপিন্সের জুয়ার টেবিলে চলে যায়। তারই একটি অংশ ফেরত পাওয়া গেল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত