সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১২:১৩

শাকিলের মৃত্যু বিষক্রিয়াজনিত কি না জানতে ভিসেরা সংগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের মৃত্যু বিষক্রিয়াজনিত কি না ময়নাতদন্ত শেষে তা জানতে ভিসেরা নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।

বুধবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, মাহবুবুল হক শাকিলের রক্ত, মূত্র ও ভিসেরা নমুনা পরীক্ষার জন্য রাখা হয়েছে। পরীক্ষার পর বোঝা যাবে, তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে। বিষক্রিয়াজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, তা জানতে ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, শাকিলের হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকের তুলনায় বড় ছিল।

ময়নাতদন্তের জন্য ডা. সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়। অপর দুই সদস্য হলেন হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ডা. শফিউজ্জামান খায়ের ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাহবুবুল হক শাকিলের মৃতদেহ বারডেম থেকে সকাল আটটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়। আটটা ৫০ মিনিটে ময়নাতদন্ত শুরু হয়। তাঁর মরদেহ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে হাসপাতাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর জানাজা হবে। ময়মনসিংহের বাগমারায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর)  রাজধানীর একটি জাপানি রেস্তোরাঁ থেকে শাকিলের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কোন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৯৬৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন শাকিল। তাঁর বাবা জহুরুল হক খোকা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বর্তমানে জেলা পরিষদের প্রশাসক। মা শিক্ষকতা করেন। তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক।

শাকিল নিয়মিত কবিতা লিখতেন। ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ ও ‘মন খারাপের গাড়ী’ নামে তার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ‌্যম বিষয়ক বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে থাকা শাকিল সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তার ছোট ভাইও একজন সাংবাদিক।

শাকিলের স্ত্রী একজন আইনজীবী, তাদের স্কুলপড়ুয়া একটি মেয়ে রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি। তখনই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসেন তিনি। প্রথমে সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে জ‌্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হন তিনি।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল সিআরআই গঠিত হলে তা পরিচালনার দায়িত্ব পান শাকিল।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পান তিনি। চার বছর পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) করা হয়।

এরপর ২০১৪ সাল থেকে অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন শাকিল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত