২০ জুন, ২০১৫ ২১:৫৬
টেকনাফের নাফ নদী থেকে অপহরণের তিন দিন পরও বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ফেরত দেয়নি মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। উল্টো তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আটকে রাখার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে বিজিপির ফেসবুক পেজে। এদিকে নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম জিরো পয়েন্টে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এক পতাকা বৈঠক শেষে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার এম এম আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের এমন কথা জানিয়েছিলেন।
তবে শুক্রবার পরে শনিবার পেরিয়ে গেলেও ফেরত দেয়া হয়নি রাজ্জাককে। এ নিয়ে দেশের সাধারণ নাগরিকদের বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ জানাতে দেখা গেছে।
অনেকেই বলছেল রাজ্জাককে ফিরিয়ে আনতে সরকারের আরও কঠোর হওয়া উচিত। সরকার ইতমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে কিন্তু মায়ানমারের পক্ষ থেকে আসেনি কোন সাড়া। অনেকেই বলছেন জরুরী কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।
ব্লগার আরিফ জেবতিক তার ফেসবুক পোষ্টে এ বিষয়ে লিখেছেন- "বাংলাদেশের বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে গেছে মায়ানমারের বিজিপি। নেয়ার পরে রাজ্জাকের হাতকড়া পরানো ছবি তারা ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছে।কোনমাত্রার উস্কানি হলে এটা হয়, ভাবলেই শরীর রাগে কাঁপতে থাকে।বাংলাদেশ তাদের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কূটনৈতিক ভাষায় যা বলার বলেছে, কিন্তু তাৎক্ষনিক পতাকা বৈঠকে সাড়া দেয়নি মায়ানমার।বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখলে চলবে না। এমনিতেই সীমান্তে ইন্ডিয়ান সীমান্তরক্ষী গুন্ডাদের তাণ্ডবে আমরা ব্যাতিব্যস্ত, এখন যদি মায়ানমারও টিনের চালে ঢিল মারা শুরু করে, তাহলে সেই দুঃখ কই রাখি? মায়ানমারের উস্কানির শক্ত জবাব দেয়া হোক। তাদের দুইটাকে ধরে এনে কক্সবাজার সৈকতের খাম্বার সঙ্গে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা হোক।তাদের এম্বেসেডরকে তলব করে এনে পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের বেঞ্চিতে বসায়া রাখেন যতক্ষন না আমাদের সৈনিক ফেরত দেয়।আর আল্লাহর ওয়াস্তে বিজিবির সেনা বাড়ান, অস্ত্রসস্ত্র বাড়ান।
এই মিনমিন ভাব যেন আর কোনো সীমান্তে না থাকে। একটার বদলে দশটা গুলি করেন, গুলি দরকার হলে আমরা রক্ত বেঁচে কিনে দেব।
"
ব্লগার সুশান্ত দাশগুপ্ত লিখেছেন- "এটা শুধু নায়েক আবদুর রাজ্জাকের অপমান নয়, এটা শুধু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর অপমান নয়। এটা বাংলাদেশের অপমান, বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের অপমান।
মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ফেইসবুক পেইজে নায়েক রাজ্জাকের ছবিগুলো আমি দেখেছি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমাদের রাজ্জাকের হাতে হাতকড়া, রক্তাক্ত মুখ, অসহায় চাহনী।
আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাজ্জাকের সামনে তাঁর অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে তাঁকে আসামির মতো করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ছবিগুলো যতোবার দেখেছি মনে হয়েছে ওখানে রাজ্জাক না, বসে আছি আমি নিজে।
ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়টি নিয়ে আমি দেশে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেছি। যতোটুকু জেনেছি, তাতে আমি খুব অবাক হয়েছি।
নায়েক আবদুর রাজ্জাক বিজিপির হাতে আটক হওয়ার পর আমাদের পক্ষ থেকে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। সব নেয়া হয়েছে আইনগতভাবে এবং নিয়মের মধ্যে থেকে। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে মিয়ানমার শিষ্টাচারের ধারও ধারেনি।
চার দিন হতে চললো। আমাদের পক্ষ থেকে কুটনৈতিক চেষ্টা কম করা হয়নি। আমার মনে হয়, যথেষ্ট হয়েছে। এবার কড়া জবাব দেয়া হোক মিয়ানমারকে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তাদের প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা তারা হারিয়েছে।
সময় বদলেছে। বাংলাদেশে এখন আর নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী নয়। পরাশক্তীদের সামনে দাঁড়িয়েও আমরা বলে দিতে পারি কারা দুই আনার মন্ত্রী আর কারা চার আনার মন্ত্রী।
আর এটা তো পুচকে......। আমাদের আবদুর রাজ্জাককে ফিরিয়ে আনা হোক। আর মিয়ানমারকে সঠিক জবাব দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হোক, তাদের সীমানা কতটুকু, যে সীমানা অতিক্রম করলে ফলাফল তাদের জন্য সুখকর নাও হতে পারে।"
গত বছরের ২৮ মে বান্দরবানের পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিপির সদস্যরা বিনা উসকানিতে বিজিবির সদস্যদের ওপর গুলি চালান। ওই সময় বিজিবির সদস্য নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। দুই দিন পর বিজিবির সদস্যরা মিজানুরের লাশ ফেরত নিতে গেলে উল্টো বিজিপি ওই প্রতিনিধিদলের ওপর আবারও গুলি চালায়। পরে ৩১ মে মিজানুরের লাশ ফেরত দিয়েছিল বিজিপি।
আপনার মন্তব্য