সিলেটটুডে ডেস্ক

২৩ আগস্ট, ২০১৫ ১৯:৩৩

রাজীব হত্যা : জব্দ তালিকার সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

দেশে ব্লগার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন রেদোয়ানুল আজাদ রানার এক প্রতিবেশী রবিবার (২৩ আগস্ট) ব্লগার কর্মী আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্যদাতা মোয়াজ্জেম হোসেন মামলার জব্দ তালিকার অন্যতম সাক্ষী।

এ মামলায় গ্রেপ্তার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী জবানবন্দিতে তাদের ‘বড় ভাই’ রানার পরিকল্পনায় হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ২০১৩ সালে রাজীব হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এ মামলার আসামি রানা পলাতক রয়েছেন।

তার প্রতিবেশী ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন রবিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদের আদালতে সাক্ষ্য দেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. এহসান রেজা রুম্মানের প্রতিবেশী উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষক নিতাই দাশগুপ্তও এদিন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা দুজনেই মামলার জব্দ তালিকার সাক্ষী। বিচারক তাদের সাক্ষ্য নিয়ে আগামী ৩০ অগাস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখেন।

২০১৩ সালে রাজীব হত্যাকাণ্ডের সময় মোয়াজ্জেম বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার যে বাসায় থাকতেন সে ভবনের চার তলায় থাকতেন রানা। তদন্ত কর্মকর্তা এই সাক্ষীর উপস্থিতিতে আসামি রানার ছবি, জীবনবৃত্তান্তসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করেন।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা রানা চলতি বছরে ব্লগার অভিজিৎ রায় ও অনন্ত বিজয় দাশসহ অন্যান্য ব্লগার হত্যাকাণ্ডেও জড়িত বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

অন্য সাক্ষী নিতাই রাজীব হত্যাকাণ্ডের সময় থাকতেন কাকরাইলে। তার আবাসিক ভবনের নীচতলায় থাকতেন রুম্মান।এই সাক্ষীর সামনে রুম্মানের কম্পিউটার, বাংলালিংকের সীমকার্ডের প্যাকেটসহ আরও কয়েকটি জিনিস জব্দ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ দুজনকে নিয়ে রাজীব হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৫৫ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হল। গত ২১ মে এ মামলার বাদী রাজীবের বাবা ডা. নাজিমউদ্দিন এ ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য দেন।

যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে বাসায় ফেরার পথে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার। ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই হত্যাকাণ্ডের পর রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসিমউদ্দিন রাহমানীর বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবা শুনে ‘নাস্তিক ব্লগারদের খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ৫ ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম দীপ, এহসান রেজা রুম্মান, মাকসুদুল হাসান অনিক, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ

ইমতিয়াজ ২০১৩ সালের ১০ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

স্বীকারোক্তিতে তারা রাজীর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রানার নাম প্রকাশ করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত