২৪ আগস্ট, ২০১৫ ১৪:৩৬
জঙ্গি অর্থায়নের দায়ে গ্রেফতার হওয়া তিন আইনজীবীকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসাদ্দেক মিনহাজ শুনানি শেষে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড প্রাপ্তরা হলেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন।
পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম জানান, হাটহাজারী থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ওই তিন আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন জানায় র্যাব। আবেদনের প্রেক্ষিতে শাকিলা ফারজানাকে দুইদিন এবং বাকিদের তিনদিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুর ২টা থেকে তাদের রিমান্ড কার্যকর হবে।
গ্রেফতার হওয়া ওই তিন আইনজীবী রবিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাজ্জাদ হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেন।
বাঁশখালী আদালতের সরকারি কৌঁসুলি বিকাশ রঞ্জন ধর জানান, আসামিরা টাকা নেওয়া ও দেওয়ার কথা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। ফলে এটা স্পষ্টই বোঝা যায় যে পরোক্ষভাবে তারা জঙ্গিদের টাকা দিয়েছেন। মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দির তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে আর্থিক লেনদেন হওয়া ব্যাংকগুলোর নাম বললেও শখার নাম বলেননি তিনি।
র্যাব দাবি করেছে, ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ নামের চট্টগ্রামভিত্তিক নতুন জঙ্গি সংগঠনের জন্য সংগৃহীত এক কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ওই তিন আইনজীবী এক কোটি ৮ লাখ টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে আইনজীবী শাকিলা দুই দফায় ২৫ লাখ ও ২৭ লাখ করে মোট ৫২ লাখ টাকা, আইনজীবী মো. হাসানুজ্জামান ৩১ লাখ এবং মাহফুজ চৌধুরী ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত,১৮ আগস্ট রাতে ধানমন্ডি থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাকিলা ফারজানা, মো. হাসানুজ্জামান ও জজকোর্টের আইনজীবী মো. মাহফুজ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রামের র্যাব-৭। এরপর তাদের বাঁশখালী থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরের দিন চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আপনার মন্তব্য