২৬ আগস্ট, ২০১৫ ২২:৪০
'গণতন্ত্র হলো কথা বলার অধিকার। লেখার অধিকার। বাঁচার অধিকার। এখন বাঁচার অধিকার নেই। লেখার অধিকার হারিয়ে ফেলেছি। খবরের কাগজকে বলা হয়, এটা লেখা যাবে না। ওটা লেখা যাবে না। আমরা এটা করি নাই। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতাম।'
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে নিজ কার্যালয়ে বরগুনা জেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
সরকারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের 'কণ্ঠরোধের' অভিযোগ করে এরশাদ বলেন, 'গণমাধ্যম এখন কথা বলতে পারে না। সরকার যা চাইবে, তা তাদের বলতে হবে।'
'বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের' জন্য সরকারকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ বলেন, 'প্রতিদিন মানুষ মরছে, পানির মতো রক্ত ঝড়ছে। কারা মারছে তা জনগণ জানে। ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। কেউ কিছু বলে না।'
তিনি বলেন, 'আমি মানুষ মারি নাই, আমার হাতে রক্ত নাই। আমার সময়ে একটিও বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়নি। আমি কোনও এলিট ফোর্স গঠন করিনি।'
দেশে কারও নিরাপত্তা নেই- দাবি করে এরশাদ বলেন, 'মায়ের কোলে শিশুও নিরাপদ নয়। হিন্দু সম্প্রয়ের মানুষের জমি দখল করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করার জায়গা নেই। খবরের কাগজেও লেখা যায় না। কারণ সব সরকারের পক্ষে।'
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু কীসের গণতন্ত্র? যেখানে কথা বলার অধিকার নাই, জনগণ তাদের দুঃখের কথা বলতে পারে না। সরকারের শেখানো কথা ছাড়া গণমাধ্যম কথা বলতে পারে না।'
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের লেখায় বাধা থাকবে না।
সংগঠন শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, 'নির্বাচন কবে হবে জানি না। হয়তো ২০১৯ সালে। এই কয় বছরে তৃণমূল সংগঠিত করুন।'
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, বরগুনা জেলার আহ্বায়ক শাহাজাহান মনসুর প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য