সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৯:০২

“আমরা মরব দেশ জাগবে” : বাঘা যতীনের মৃত্যুশতবার্ষিকীতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা কাল

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন নয় মাস সময়সীমার ভেতর আবদ্ধ ছিল না। সাম্প্রতিক ইতিহাসে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম আরম্ভ হয়েছে ঔপনিবেশিক বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে।

এরপর বৃটিশরা বিদায় নিলেও পাকিস্তানের প্রায়-ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির জন্য বাঙালিকে সংগ্রাম করতে হয়েছে আরও দুই যুগ, যার অবসান ঘটেছে স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অনন্যসাধারণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে।

ভারতবর্ষে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে যাঁরা সশস্ত্র সংগ্রাম করেছেন, এই সংগ্রামে যাঁদের আত্মদান ইংরেজ শাসকদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছে, দুশ’ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তিমূলে আঘাত করে স্বাধীনতা অনিবার্য করে তুলেছে- তাঁদের অন্যতম বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (১৮৭৯-১৯১৫), যিনি ‘বাঘা যতীন’ নামে বেশি পরিচিত। দেশমাতৃকার প্রতি গভীর ভালবাসা ও দায়বদ্ধতা, অপরিসীম সাহস ও শৌর্যবীর্য তাঁকে অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের প্রথম পংক্তিতে স্থান দিয়েছে।

মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ১৯১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর উড়িষ্যার বালাশোরের চষাখণ্ডে ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন তিনি। অন্তিম নিঃশ্বাস ত্যাগের পূর্বে তিনি বলেছিলেন- “আমরা মরব দেশ জাগবে”।

বাঘা যতীনের জন্ম বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে। এ বছর এই মহান বিপ্লবীর মৃত্যুশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের মুক্তিযোদ্ধা, সচেতন নাগরিক সমাজ এবং মুক্তিযুদ্ধোত্তর প্রজন্ম বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে এই আয়োজনের জন্য অধ্যাপক আনিসুজ্জামান পদ্মভূষণ-এর নেতৃত্বে শত সদস্য বিশিষ্ট নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতে সপ্তাহব্যাপী বিপ্লবী বাঘা যতীনের মৃত্যুশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালার সূচনা হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর (২০১৫) সকাল ১০টায় বাঘা যতীনের জন্মস্থান কুষ্টিয়ার কয়া গ্রাম থেকে।

কয়া কলেজ প্রাঙ্গণে সারা দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বাঘা যতীনের পৌত্র সহ বাংলাদেশের  মাননীয় মন্ত্রীগণ, বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি।

উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত ভাষণ দেবেন শহীদ বাঘা যতীনের মৃত্যুশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।
উদ্বোধনী অধিবেশনে অতিথি হিসেবে থাকবেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি,  তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী পঙ্কজ শরণ, মুক্তিযুদ্ধে ৮ নং সেক্টরের অধিনায়ক ও গণআদালতের অন্যতম বিচারক লে. কর্ণেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, ভারতের ইন্সটিটিউট অব সোশাল এ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজের সাধারণ সম্পাদক শ্রী অরিন্দম মুখোপাধ্যায়।

শহীদ বাঘা যতীনের মৃত্যুশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান পদ্মভূষণ।

দ্বিতীয় অধিবেশনের বিষয় : ‘উপমহাদেশের মুক্তি সংগ্রামে বিপ্লবী বাঘা যতীনের অবদান’

বিকেল ৩টায় দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারত থেকে আগত শহীদ বাঘা যতীনের পৌত্র শ্রী ইন্দুজ্যোতি মুখোপাধ্যায়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন কুষ্টিয়া-৪ জাতীয় সংসদ সদস্য আবদুর রউফ এমপি, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশীদ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, এডভোকেট লালিম হক, কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি জনাব গোলাম মহসিন, কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জনাব ফজলুল হক বুলবুল, কুমারখালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভা মেয়র জনাব শামসুজ্জামান অরুণ, ড. রফিকুল হাসান, এডভোকেট বায়েজীদ আক্কাস, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. নুজহাত চৌধুরী, এটিএম আবুল মনসুর মজনু, কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম।

দ্বিতীয় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন শহীদ বাঘা যতীনের মৃত্যুশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির যুগ্ম চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : বাঘা যতীনের জীবনীভিত্তিক নাটক পরিবেশন করবে ‘বাঘা যতীন থিয়েটার কয়া’। সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশন করবেন কুষ্টিয়া ও কুমারখালীর শিল্পীবৃন্দ। সবশেষে বাঘা যতীনের রাজনৈতিক জীবনের প্রামাণ্যচিত্র “বাঘা যতীন” প্রদর্শিত হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত