সিলেটটুডে ডেস্ক

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১২:৩৫

বিদেশি খুন: ‘বিস্মিত’ প্রধানমন্ত্রীর সন্দেহে বিএনপি-জামায়াত

গুলশানে ইতালীয় নাগরিক চেজারে তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যার  ঘটনা ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করে শেষ হাসিনা জঙ্গি হামলার তথ্য থাকার কথা বলে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের সতর্ক করায় বিস্ময় প্রকাশ করে ঘটনার জন্যে বিএনপি-জামায়াতকে সন্দেহ করেছেন। 

যুক্তরাষ্ট্র সফরের মধ্যে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্য পাঠের পাশাপাশি তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড, জঙ্গিবাদের শঙ্কা, বাংলাদেশের রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।  

ইতালীয় নাগরিক ইস্যুতে তিনি বলেন, যে কোনো সময় মানুষ হত্যা করে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যায়। বাংলাদেশে এ ধরণের লোক রয়েছে যারা চাইবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে। তারাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অন্য দেশে যখন বাংলাদেশের নাগরিক নিহত হয়, তখন তো কেউ রেড অ্যালার্ট দেয় না’। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করে বলেন- “এই নিউ ইয়র্ক শহরেও আওয়ামী লীগ নেতা নজমুলকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাই বলে কি এই সিটিতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল?”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে যারা নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিচার হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশই শুধু নয়, এখন বিশ্বব্যাপী এমন সন্ত্রস্ত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা কোনো জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানও আমরা চাই না।”

যারা বাংলাদেকে ‘অস্থিতিশীল’ করতে চায়, তারাই এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর সন্দেহ।

“দেশে একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মানুষ পুড়িয়ে মারে। মানুষ হত্যা করে দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়- এমন কিছু লোকতো বাংলাদেশে রয়েছে। তারাতো চাইবেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সেই শ্রেণির লোকদেরই কর্মকাণ্ড এগুলো।”

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)  সন্ধ্যায় চেজারে তাভেল্লা খুন হওয়ার পর আইএস-এর দায় স্বীকারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রী প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা যদ্দুর জানি, শিকাগো থেকে একটি মেসেজ দেয়া হয়েছে যে, এটি আইএস করেছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কেউ এমন দাবি করেছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো মেসেজ পাইনি।”

ওই হত্যাকাণ্ডের পর এক বিএনপি নেতার বক্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা।

“আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, বিভিন্ন দূতাবাস থেকে রেড এলার্ট জারির পরই বিএনপির এক নেতা জোর গলায় কথা বলছেন।”

তাভেল্লা হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক জুজুর ভয় দেখিয়ে’ সরকার নিজেই এখন তার শিকারে পরিণত হয়েছে।

ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হত্যায় প্রধানমন্ত্রীর সন্দেহ বিএনপি জামায়াতের দিকে। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় আইএসের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তার কাছে তথ্য নেই। হত্যা পরবর্তী বিবৃতিদাতা বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যারা আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে তাদের বিচার হবে।

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে না আসার বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব ব্যাপার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেস্ট সিরিজ আয়োজনে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার অভাব নেই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত