Advertise

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ এপ্রিল, ২০২০ ১৭:৫১

কমিটির প্রধান বানানো হলেও আমাকে কিছু জানানো হয় না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় না করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কমিটির চেয়ারম্যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, জাতীয় কমিটির প্রধান তাকে বানানো হলেও কিছু জানানো হয়না; দেশে-বিদেশের সাংবাদিকেরা আমাকে প্রশ্ন করেন কিন্তু সদুত্তর দিতে পারি না।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস) ভবনে সম্মেলন কক্ষে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমন অভিযোগ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় একটা ন্যাশনাল কমিটি (জাতীয় কমিটি) ফর্ম করা হয়েছে। সেই ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান আমাকে করা হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু ন্যাশনাল কমিটিতে যে সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে সে সিদ্ধান্তগুলো আমাদের নলেজে নাই। কখন ফ্যাক্টরি খোলা হবে, খোলা হবে কি না- এ বিষয় আমরা জানি না।’

‘মসজিদে নামাজ কীভাবে হবে বা আলোচনা সে বিষয়ও আমরা জানি না। কখন রাস্তা খুলে দেবে বা বন্ধ করবে সে বিষয়ও আমরা জানি না। আমরা স্বাস্থ্য বিষয় বাদে কোনধরনের বিষয় আমাদের সঙ্গে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি’ যোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। তাদেরকে আমি সদুত্তর দিতে পারিনা। শুধু দেশের সাংবাদিক না আজকাল আমাকে বিদেশ থেকেও অনেক সাংবাদিক ফোন করে, ফোনে ইন্টারভিউ নেয়, ফোনে টেলিভিশনে যোগ হয় তারা, এই সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করে; এবং অনেক সময় দোষও দেয় যে আপনি যদি সেই কমিটির হেড হয়ে থাকেন তাহলে এই কমিটির সিদ্ধান্তগুলো আপনি জানেন না কেন? এটাও একটা সমস্যা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সচিব সাহেবকে বলেছি যে এই বিষয় নিয়ে যেন আলোচনা করেন। আমাদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত না নিলেও অন্তত পরামর্শ ত করতে পারে। তখন আমরা আমাদের পরামর্শ দিতে পারি।’

পোশাক কারখানা খোলা রাখা প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বিষয়গুলো দেখবে। আমরা যদি ইচ্ছে করে সংক্রমণ বাড়াই, সেটা তো বলতে হবে। আগামীতে যাতে এমনটা না হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে।’

বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাচিপ সভাপতি ইকবাল আর্সলান, সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১২৩ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩ জন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত