সিলেটটুডে ডেস্ক

১৬ অক্টোবর, ২০১৫ ২২:৪৬

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না’

বিদেশে বসে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রীর এমন অভিযোগ ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না’  বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে তারা একে ‘আজগুবি ও মনগড়া’ আখ্যায়িত করেছে।  

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গত কয়েকদিন ধরেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ তুলছেন।

“আমাদের চেয়ারপারসন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। সরকার কতটা অমানবিক হলে দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতার প্রতি এরকম ‘মনগড়া, আজগুবি’ মন্তব্য করতে পারেন।”

এ ধরনের অভিযোগ ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না’ মন্তব্য করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার থেকে’ বিরত থাকতে সরকারপ্রধানের প্রতি আহ্বান জানান রিপন।

বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া দেশে থেকে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ২০১৫ এর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১৫০ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

“এখন তিনি বিদেশে গেছেন। বিদেশের মাটিতে বসে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। আর বিদেশি মানুষগুলি; এখানে তাদেরকে হত্যা করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাচ্ছেন।”

বিএনপি ‘গণতান্ত্রিক পন্থায়’ রাজনীতি করে দাবি করে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রিপন বলেন, “জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই, ছিল না।”

সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, পেট্রোল বোমা ছোড়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ‘সরকারের লোকেরা’ জড়িত।

“সেন্টার ফর ন্যাশনাল স্টাডিজ নামে একটি সংগঠন তাদের সাম্প্রতিক একটি প্রকাশনায় এসব ঘটনায় সরকারদলীয়দের সংশ্লিষ্টতার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সরকার অসৎ উদ্দেশ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে গোয়েবলসীয় প্রচারণায় মত্ত রয়েছে।”

সরকারে থাকতে বিএনপি ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নে কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে দাসিয়ারছড়ায় প্রধানমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তারও প্রতিবাদ জানান রিপন।

তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকার বার বার ভারতের সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছিল, চুক্তিটি বাস্তবায়ন করার জন্য।

“পরে বেগম খালেদা জিয়াও তিন দফায় সরকারের দায়িত্ব পালনের সময় এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য, দুই দেশের মধ্যকার সকল অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য বার বার তাগিদ দিয়েছিলেন।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন ও তকদির হোসেন জসিম।

বৃহস্পতিবার সদ্য বিলুপ্ত সর্ববৃহৎ ছিটমহল কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ায় প্রধানমন্ত্রী  তার বক্তব্যে এমন কথা বলেছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত