সিলেটটুডে ডেস্ক:

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ২১:০৩

ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তারে ফখরুলের উদ্বেগ, মুক্তির দাবি

আলেম-উলামাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে লকডাউনে সুযোগ নিয়ে বিএনপিসহ ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, এটা একটা ক্র্যাকডাউন করা হয়েছে। সেই ক্র্যাকডাউনের মধ্য দিয়ে একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের ধর্মীয় নেতা বিশেষ করে আলেম-উলামাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ সব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই সমস্ত মামলা-মোকদ্দমা তুলে নেওয়া হোক, ধর্মীয় যারা নেতা আছেন, আলেম-উলামা আছেন তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করা হোক এবং বিএনপির যেসব নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে তাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক। ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করে আজকে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের বুকে আঘাত করা হচ্ছে। তাদের আবেগ, সেন্টিমেন্টে আঘাত করা হচ্ছে।

‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ধর্মীয় নেতাদেরকে এভাবে অপমান করা, তাদেরকে এভাবে হয়রানি করা এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কিন্তু কোনোভাবে মেনে নেবে না, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।’

হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে আমরা বরাবরই বলেছি, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। এটা কোনো রাজনৈতিক দলও নয়। সম্পূর্ণভাবে একটি ধর্মীয় সংগঠন।’

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র আগমনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো সংগঠিত হয়েছে এটা তো সরকারের তৈরি করা। আমি এর আগেও বলেছি। সরকার খুব পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাগুলো যাতে ঘটে তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, ২৬ মার্চ কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন একই সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক সংগঠন তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করেছিলো এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছিলো। আমরা স্পষ্ট করে বলছি যে, ওইসব ঘটনাগুলোর সঙ্গে বিএনপি কখনো জড়িত ছিলো না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এখন সম্পূর্ণ একটা গণবিচ্ছিন্ন দলের পরিণত হয়েছে, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই তাদের এখন রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর ভর করে রাজনীতি করতে হচ্ছে। তাদেরকে রাজনীতি করতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে। তাদের রাজনীতি করতে হচ্ছে বিচার বিভাগ দলীয়করণ করে, তাদেরকে রাজনীতি করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত