সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:১১

আমরা কখনোই সংবিধান সংস্কারের কথা বলিনি: মির্জা ফখরুল

জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভায় তিনি অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, ‘বিরোধী দল বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে। কিন্তু আমার মনে হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে। জুলাই সনদে সবাই একসঙ্গে স্বাক্ষর করেছি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব দলই এতে স্বাক্ষর করেছে। আমরা বারবার বলেছি, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

গণভোটের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বললেন, ‘যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, তার একটি অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত ছিলাম না। সে সময় আমি নিজেও বলেছিলাম, এতে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কার কমিশন আমাদের সম্মতি ছাড়াই ওই প্রস্তাবগুলো এনেছিল।’

‘জুলাই সনদে স্পষ্ট বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এটি বাস্তবায়ন করবে। আমরা বারবার বলেছি, ৩১ দফার মতোই জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু বিরোধী দল ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করছে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না’— জানালেন মির্জা ফখরুল।

তার দাবি, ‘সংস্কারের ধারাও বিএনপিই চালু করেছে। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান—এসব বিএনপিই প্রবর্তন করেছে। এখন এসব নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।’

বিরোধী দলের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বললেন, ‘কিছু মানুষ মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনগণই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন আমরা সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কী বলেছি।’

তিনি বললেন, ‘বিএনপি সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধনের পক্ষে। আমরা কখনোই সংবিধান সংস্কারের কথা বলিনি। বরাবরই সংবিধান সংশোধনের কথা বলে আসছি।’

তার অভিযোগ, বিরোধী দল ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে জুলাই সনদকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না, জুলাই সনদ শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হোক। জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু একটি মাসের আন্দোলন নয়; প্রায় ১৮-১৯ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনেরই ধারাবাহিক ফল এটি।’

জুলাই আন্দোলনে বিএনপির সবচেয়ে বেশি ত্যাগ রয়েছে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। বললেন, ‘বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন গুম হয়েছেন। নিহত হয়েছেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। এসব বিষয় নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

তিনি বললেন, ‘বিভাজনের রাজনীতি নয়, গণতন্ত্রের পথে এগোতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মতো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে পারলে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নেওয়া সম্ভব।’

মির্জা ফখরুল বললেন, ‘সমস্যার সমাধান সহজ নয়। ধৈর্য ধরে গণতন্ত্রের পথেই এগোতে হবে। তাহলেই সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, কবি আবদুল হাই শিকদার, হাসান হাফিজসহ বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত