সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

২৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:৫১

হবিগঞ্জে হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীসভা

মহান মে দিবস উপলক্ষে সবেতনে সর্বাত্মক ছুটি প্রদানের দাবিতে হবিগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৮৬৮ এর উদ্যোগে এক কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিটি শ্রমিক ফেডারেশন রেজিঃ নং বিঃ-২০৩৭ এর ডাকে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার রাত ৮টায় শহরের নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. কাওছার খান। কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এখলাছুর রহমান সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, কোষাধ্যক্ষ শহীদ খান, প্রচার সম্পাদক শাহ রুবেল হাসান, দপ্তর সম্পাদক অরুণ দাশ, সদস্য কুশাল দাশ, রিপন ময়া প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহান মে দিবস আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস। সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য ও সংহতি প্রকাশের দিন। মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ মে সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণি ছুটি ভোগ করে থাকেন। বাংলাদেশেরও সর্বস্তরের সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা ১ মে ছুটি ভোগ করলেও আমরা হোটেল শ্রমিকরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। মে দিবসে ছুটি প্রদানের জন্য আমরা দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নীরবতা পালন করে আসছেন। মে দিবসে ছুটি প্রদানের প্রেক্ষিতে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। এমন কি শ্রমিক সংহতি দিবস পালনেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বাঁধা নিষেধ ও অনুষ্ঠানে যোগদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকেন। এছাড়া শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের পর সরকার নতুন করে ১ মার্চ ২০১৭ তারিখে হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরির গেজেট (এসআরও নং ৩৮-আইন/২০১৭) প্রকাশ করেন। বর্তমান ঊর্ধ্বগতির বাজারদরে সরকার ঘোষিত মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন শ্রমিক ১০ দিনও চলতে পারবে না। সরকার ঢামাঢোলের সাথে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি উদযাপন করলেও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন তথা মজুরি বৃদ্ধিতে নির্বিকার। দেশের উৎপাদক শ্রেণি তথা শ্রমিক-শ্রেণিকে অভুক্ত রেখে প্রকৃত অর্থে কোন দেশেরই উন্নয়ন সম্ভব নয়। হোটেল শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘণ্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, যার কারণে হোটেল শ্রমিকদের  মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
      
সমাবেশ থেকে মহান মে দিবসে সবেতনে সর্বাত্মক ছুটি, বর্তমান বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ন্যায্য মজুরি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, মাসিক বেতনের সমপরিমাণ উৎসব বোনাস প্রদান, হোটেল সেক্টরে ৮ ঘণ্টা কর্ম দিবসসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি কার্যকর, সমকাজে সমমজুরি ও কর্মক্ষেত্রে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করার দাবি জানানো হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত