সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ নভেম্বর, ২০১৫ ২২:২৯

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে নিরাপত্তা আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসনের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ক্রিকেট পাগল। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা সব সময় আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করি।’

“জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।”

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা আশাবাদী যে টুর্নামেন্টটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেই হবে।

আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন বাংলাদেশ সফর করছেন অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে।

আইসিসি’র সর্বশেষ বৈঠকে বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশকেই ঠিক রাখা হয়েছিল, তবে বলা হয়েছিল চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সন্তুষ্ঠ হওয়ার পর।

পরে আইসিসির প্রধান নির্বাহী রিচার্ডসন সাংবাদিকদের বলেন, “অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে খেলোয়াড, তাদের পরিবার এবং দর্শকদের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। এই টুর্নামেন্টে যেসব দল অংশ নিচ্ছে সেসব দেশের দূতাবাসের সঙ্গেও কথা হয়েছে।

“নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। এর মানে এই নয় যে, প্রতিযোগিতা বন্ধ থাকবে। যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা বিসিবি, সরকার, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক বাহিনীসহ যারা নিরাপত্তার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করবে, তাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি।”

রিচার্ডসন বলেন, “আমরা কীসের বিরুদ্ধে আছি, কী করতে হবে, কী করে এটা মোকাবেলা করা যায় সেটা বুঝতে পেরেছি। সেজন্য আমরা সন্তুষ্ট।”

চলতি মাসের শেষে এই প্রতিনিধি দল তাদের সফর নিয়ে আইসিসিতে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানান তিনি।

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও খুলনার চার ভেন্যুতে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের অংশগ্রহণে মোট ৪৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শক শন নরিস ও রেগ ডিকসন ও হেড অব ইভেন্টস ক্রিস টেটলি উপস্থিত ছিলেন।

একই রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যখন মি. রিচার্ডসন তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাদের আমরা বলেছি এই টুর্ণামেন্টকে প্রোটেকশন দেয়ার জন্য আমরা তৈরি। আমি বিশ্বাস করি এই খেলাটি সময়মত হবে এবং সবাই আসবে।”

২০১৪ সালে বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ হয়েছিল, আর তখন নির্বাচনের কারণে বাংলাদেশে এক ধরণের অনিশ্চয়তার পরিবেশও বিরাজ করছিল।

তবে মার্চে শুরু হওয়া ঐ টুর্নামেন্ট কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই শেষ হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত