ক্রীড়া প্রতিবেদক

১১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ১৬:৪৩

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ উইকেটে হেরে মিরাজদের স্বপ্নভঙ্গ

কেন হারল বাংলাদেশ? অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস? টস জিতে নেয়া ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নাকি স্পিনারদের জ্বলে না উঠা? প্রত্যেকটিই কারণ বলা যায়। যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোইল করেছিল জুনিয়র টাইগাররা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের সাথেই পারল না। প্রতিদ্বন্দিতাময় ম্যাচে ৩ উইকেটে হেরে যুব বিশ্বকাপ মিশন শেষ হল মেহেদে হাসান মিরাজের দলের।  

কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেই যে মিরাজরা বলেছিলেন সেমিতে প্রিয় প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেলেই খুশি হবেন তারা। এটাকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ধরে নিলে সে ভুলেই কাঁটা পড়ল শান্ত-মিরাজের যাত্রা। সকালে কুয়াশাছন্ন পরিবেশে টস জিতে যেকোন দলের অধিনায়কই প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের অগ্নিপরীক্ষায় ফেলতে চাইবেন এদিন কিনা বাংলাদেশ নিজেরাই ক্যারিবিয়ান দুর্দান্ত পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়িয়ে আত্মাহুতি দিতে থাকলেন। আর আগে ক্যারিবিয়ান দলটি বাংলাদেশের সাথে ১৫০ রানের বেশি করে জিততে পারেনি। স্পিন বিষে প্রতিবারই ধরাশায়ী হয়েছে। কিন্তু ২২৬ রানের পুঁজি নিয়ে স্পিনাররা বড্ড বেশি খরুচে বোলিং করলেন। অফস্পিনার সঞ্জিত সাহার অভাবটা তাই ভালই টের পাওয়া গেল। দারুন বল করে বাঁহাতি পেসার মেহেদি হাসান রানাকে কেন জানি ইনিংসের শেষে আর ব্যবহারই করলেন না অধিনায়ক। 


২২৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গিডরন পোপের ঝড়ে প্রথম ৩ ওভারেই উঠে যায় ৩১ রান। মেহেদি হাসান রানার বলে এই পোপেরই সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিলেন সালেহ আহমদ শাওন। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক মিরাজ পোপকে ফিরিয়ে দেন তবে ততক্ষণে ২৫ বলে ৩৮ রানের ঝড় তোলে টার্গেটকে সহজ করে দিয়ে যায় এই ক্যারিবিয়ান। এর আগে আরেক ওপেনার  ইমলাককেও ফিরিয়েছেন মিরাজ।

৫৬ রানে দুই উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যখন আরও ভালভাবে চেপে ধরার দরকার তখন কিছুটা যেন আলগা হয়ে যায় টাইগারদের বোলং। ফলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে কার্টিকে সাথে  ৬২ রানের জুটি গড়ে খেলায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হেইটমায়ার। ২২ রান করা কার্টিকে শাওন ফেরালেও অপরপ্রান্তে অবিচল থাকে হেইটমায়ারের ব্যাট। পেসার সাইফুদ্দিনের বলে ৬০ রান করে হেইটমায়ার আউট হলে কিছুটা খেলায় ফিরে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে গোলি ও পলকে একই ওভারে ফিরে দিয়ে শাওন খেলায় ফেরান বাংলাদেশকে। তবে অলরাউন্ডার স্প্রিঙ্গার এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে শান্ত মাথায় খেলা শেষ করে দেন। অথচ মাত্র ১৫ রানেই তিনি আউট হতে পারতেন। সাইফুদ্দিন তার রিটার্ন ক্যাচটি ফেলে দেন। মাঝে ফ্রিউকে ফিরিয়ে পেসার তিনি আবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একটুর জন্য হয় নি।সমর্থকরাও হতাশায় বাড়ি ফেরেন। একটুর জন্য কেন জানি হয় না বাংলাদেশের। ম্যাচ শেষে গ্যালারীতে ক্রন্দনরত অনেক মুখ বলে দিচ্ছিল কতটা প্রত্যাশা ছিল এবারের দলটির প্রতি।

বোলিংয়ে ২ উইকেট ও ব্যাটে ম্যাচ জেতানো ৬২ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার স্প্রিংগার।


সকালে টস জিতে ব্যাটিং করে বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশকে চাপের মুখ থেকে টেনে তোলে অধিনায়ক মিরাজের অর্ধশতক। তাঁর ৬০ রানের সাথে সাইফুদ্দিনের ৩৬ ও জয়রাজ শেখের ৩৫ রানের কল্যানে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২৬।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত