১০ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৯
জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরেছে বাংলাদেশ। এই পরাজয়ে সিরিজ হারল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। জিম্বাবুয়ের এবারের জয় ১৩ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে তৃতীয় ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই, জিম্বাবুয়ের কাছে এক টেস্ট ও দুই ওয়ানডে হার—তিন সংস্করণ মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ হেরে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। তাতে করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা বেড়েই চলেছে বাংলাদেশের। ২০২২ সালে সবশেষ অনুষ্ঠিত দুই দলের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে।
হাতে ৪ উইকেট নিয়ে শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩০ রান। ভরসার প্রতীক হিসেবে এক প্রান্তে মিরাজ থাকলেও রিশাদ হোসেন (৮), তাসকিন আহমেদ (০) ও শরীফুল ইসলাম (৬) দ্রুত বিদায় নিলে সব দায়িত্ব পড়ে মিরাজের কাঁধে। যেখানে ৪৮তম ওভারের শেষ বলে শরীফুলকে বোল্ড করে ইভান্সের উল্লাসই বলে দিচ্ছিল জিম্বাবুয়ে ম্যাচটা একরকম জিতেই গেছে। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে ম্যাচটা ১৩ রানে জিতেছে। মিরাজকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এনগারাভা বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টেনেছেন।
২৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ৮.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৩৮ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ওপেনার সৌম্য সরকারের (৫) পর তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্তও (৯) এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছেন। সৌম্যকে ফিরিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি। আর শান্তকে ফিরিয়েছেন ব্রাড ইভান্স। যে ইভান্স আট নম্বরে নেমে ৩৪ বলে ৫৮ রান করেছেন বলেই জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৪৭ পর্যন্ত গিয়েছে।
পাওয়ার প্লের (প্রথম ১০ ওভার) ২ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়। হৃদয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১০৮ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ার পথে অষ্টম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন তামিম। ২৭তম ওভারের তৃতীয় বলে তানজিদ তামিমকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন ব্রায়ান বেনেট। ৭০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৭ রান করেন তানজিদ তামিম।
তামিমের পর এরপর নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৮ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে হৃদয়কে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ওয়েসলি মাধেভেরে। হৃদয় ৯০ বলে ৫ চারে করেন ৬০ রান। ওয়ানডেতে এটা তাঁর ১৪তম ফিফটি। এরপর ছয় নম্বরে নেমে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত একটা চার মারলেও ৯ বলে করেছেন ৭ রান।
হৃদয়-মোসাদ্দেকের দ্রুত বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৩৭.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৬ রান। একপ্রান্ত আগলে সাবলীলভাবে খেলতে থাকা সোহান ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে বড় জুটি গড়ার আভাস দিলেও জুটিতে হয়েছে কেবল ৩১ রান। ৪২তম ওভারের শেষ বলে সোহানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন এনগারাভা।
৪১ বলে ৫ চারে ৩৮ রান করা সোহানের বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৪২ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৭ রান। এরপর হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ৮ ওভারে ৪১ রানের সমীকরণও মেলাতে পারেনি সফরকারীরা। ১১ বল আগেই ২৩৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। মিরাজ (২৭) শেষ অব্দি থেকেও বাঁচাতে পারলেন না দলকে। বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬০ রান আসে হৃদয়ের ব্যাটে। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এনগারাভা ৯.১ ওভারে ৫৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন মুজারাবানি ও ইভান্স। রাজা, বেনেট ও মাধেভেড়ে নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া জিম্বাবুয়ে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে করেছে ২৪৭ রান। ওপেনার বেন কারেন ১৩৫ বলে ৯ চারে ১১১ রান করে অপরাজিত থাকেন। যিনি আউট হতে পারতেন ৪ রানেই। শরীফুলের বলে তাওহীদ হৃদয় কাভারে ক্যাচ হাতছাড়া করেন। বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।
আপনার মন্তব্য