স্পোর্টস ডেস্ক

২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ১৮:৩৮

বিসিবিতে দলীয়করণ ও অনিয়ম চলছে : টিআইবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বিসিবি’র সভাপতির অতিরিক্ত ক্ষমতায়ন, আইনি অপরিপক্কতা, রাজনৈতিক ও দলীয়করণ এবং নানা প্রকার অনিয়মের কারণে এই ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত (টিআই) এর ‘গ্লোবাল করাপশন রিপোর্ট : স্পোর্ট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিসিবি’র বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী- একজন বোর্ড সভাপতি, ২৭জন বোর্ড পরিচালক এবং ২০টি পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। বর্তমান নেতৃত্বের স্বার্থে পরিচালকরা একতরফা গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছেন। সেখানে সভাপতি নিজেই সাধারণ পরিষদের পাঁচজন কাউন্সিলর নির্বাচন করেন এবং পরিচালনা কমিটিগুলোর সদস্য নির্বাচন করেন। যার কারণে সভাপতি তার পছন্দের ব্যাক্তি দ্বারা বোর্ডে সহজেই অবৈধ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।

বোর্ডকে রাজনৈতিকরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১২ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মত বিসিবি’র সংবিধান সংশোধন করার পর বর্তমান সভাপতি সর্বসম্মতিভাবে নির্বাচিত হয়।  এই নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন সত্বেও সভাপতি ও পরিচালক পদে মনোয়ন প্রক্রিয়ায় দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল।

সারাদেশ থেকে প্রতিনিধি নেয়ার কথা থাকলেও দুই তিনজন ছাড়া অধিকাংশ বোর্ড সদস্য ঢাকা ভিত্তিক ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন এবং যাদের সাথে ক্ষমতাসীন দলের সংযোগ আছে। এমনকি ম্যাচের ভেন্যু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকে বলেও জানান তিনি।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতি মোকাবেলা করার জন্য বাংলাদেশে কোন সুনির্দিষ্ট আইন নেই উল্লেখ করে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন,  ‘১৮৬০ সালের বাংলাদেশ দণ্ডবিধি এবং ২০০৪ সালের দুদক আইনে অসদ আচরণ ও দুর্নীতির কথা বলা আছে। কিন্তু ক্রিকেটে দুর্নীতি তদন্তের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন বিধিবিধান ও প্রক্রিয়া উল্লেখ নেই।

 টিআইবি’র এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, বিপিএলের প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট ছিলো কিছুটা সমস্যাপূর্ণ। এটা হয়েছিল অস্থায়ী ভিত্তিতে, যেখানে টুর্নামেন্টের জন্য উপযুক্ত নীতি বা বিধান ছিল না। সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি ছাড়াই ফ্র্যাঞ্চাজিগুলো খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের হার নির্ধারণ করেছিল। খেলোয়াড়দের সাধারণভাবে নগদ অর্থ প্রদান করায় কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি এসব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ আছে।

এই সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও কারিগরি উৎকর্ষ বৃদ্ধি করে দুর্নীতি বিরোধি ইউনিটের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করণ; ফিক্সিং, প্রতারণার অন্যান্য কৌশল নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইন সংস্কার করা ও তার কার্যকরী বাস্তবায়ন করা; বিসিবি’র পরিচালনা উন্নতর করতে একে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তদারকির আওতায় নিয়ে আসা এবং বিসিবি’র সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের স্বপ্রণোদিতভাবে আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা ও তথ্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত