১৮ মার্চ, ২০১৫ ১৩:০৩
আশঙ্কা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা আবার আগেকার মতো চাপে ভেঙে পড়ে কীনা। ওদিকে গত দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলে সেটা এক প্রকার অভ্যাসেই পরিণত করেছিল শ্রীলংকা। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা, আশংকাকে অমূলক প্রমাণ করে শ্রীলংকাকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে পৌছালো দক্ষিণ আফ্রিকা।
বুধবার (১৮ মার্চ) সিডনি ক্রিকেটস গ্রাউন্ডে একতরফা ম্যাচে শ্রীলংকাকে হারালো তারা ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই খালি হাতে ফিরল গত দুইবারের ফাইলনালিস্ট শ্রীলংকা।
এ ম্যাচের মাধ্যমে শ্রীলংকান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলো, হয়ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও। সাঙ্গাকারা এ বিশ্বকাপে পরপর চার ম্যাচে চার সেঞ্চুরি করে এক অনন্য রেকর্ড গড়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
কুমার সাঙ্গাকারা যখন আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যাচ্ছিলেন তাঁকে সম্মান জানাতেই বোধহয় হঠাত করে সিডনির আকাশ কেঁদে ওঠল। ঝরঝর বৃষ্টিতে খেলাও থেমে গেলো কিছুক্ষণ। পরে অবশ্য আকাশ শান্ত হয় এবং খেলার বাকি অংশটুকুও সম্পাদিত হয়।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলংকা করে ১৩৩ রান। জবাবে কেবল হাশিম আমলার উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
হাশিম আমলা ১৬ রান করে কুলাসেকারার হাতে মালিঙ্গার বলে আউট হন। কুইন্টন ডি কর্ক ৭৮ রান এবং ফাফ ডুপ্লেসিস ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে শ্রীলংকান ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারকে তুলে নিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন দুই পেসার। সেই ভিত্তির উপর দাড়িয়ে সিডনিতে শ্রীলংকাকে গুড়িয়ে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা।
ইমরান তাহির আর জেপি ডুমিনির স্পিনে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে লংকানরা অলআউট হয়েছে মাত্র ১৩৩ রানে। জেপি ডুমিনি আবার করে ফেললেন হ্যাটট্রিক।
টসে জিতে ব্যাট করতে নামা শ্রীলংকা চাপে পড়ে যায় প্রথম ৫ ওভারেই। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৬ রান তুলতেই ততক্ষণে বিদায় নিয়েছেন দুই ওপেনার।
নকআউট পর্বে প্রথম জয় পেতে বোলারদের দাপটে ছোট লক্ষ্যই পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে পৌঁছাতে ১৩৪ রান চাই প্রোটিয়াদের।
বুধবার সিডনি ক্রিকেটস গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩৭.২ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
কাইল অ্যাবটের করা দ্বিতীয় ওভারে উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসবন্দি হন কৌশল পেরেরা। পঞ্চম ওভারে আঘাত হানেন ডেল স্টেইন। তার বলে ফাফ দু প্লেসির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিলকারত্নে দিলশান।
২০তম ওভারে ইমরান তাহিরকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় লাহিরু থিরিমান্নের প্রতিরোধ গড়া ইনিংস। ২৪তম ওভারে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে ফাফ দু প্লেসির ক্যাচে পরিণত করেন তাহির।
৩৩তম ওভারে জেপি ডুমিনি ফিরিয়ে দেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে। পরের ওভারে থিসিারা পেরেরাকে বিদায় করেন তাহির। ৩৫তম ওভারের প্রথম দুই বলে নুয়ান কুলাসেকারা ও থারিন্দু কৌশলকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন ডুমিনি। ৩৭তম ওভারে ফিরে যান কুমার সাঙ্গাকারা। মর্নে মরকেলের বলে ডেভিড মিলারের তালুবন্দি হন তিনি।
বুধবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে কোয়ার্টার-ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিং নেয় শ্রীলঙ্কা।
শ্রীলঙ্কা দলে একটি পরিবর্তন এসেছে। সিকুগে প্রসন্নর জায়গায় অভিষেক হয়েছে থারিন্দু কৌশলের।
কোয়ার্টার-ফাইনালের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বড় একটা ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের।
দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ফিরেছেন ফাফ দু প্লেসি ও কাইল অ্যাবট। বাদ পড়েছেন ফারহাদ বেহারদিন ও ভার্নন ফিল্যান্ডার।
গ্রুপ পর্বে চারটি করে ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা।
আপনার মন্তব্য