নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মার্চ, ২০১৫ ১৬:২১

সাঙ্গাকারার বিদায়ে কাঁদলো প্রকৃতিও

হে শিল্পী বিদায়

বিদায় নিচ্ছেন সাঙ্গাকারা, কাঁদছে প্রকৃতি

কেবল মাত্র সাঙ্গাকারার ক্যাচ তালুবন্দি করেছেন মিলার। বোলার মরকেলের উদযাপন তখনো শেষ হয়নি। এরমধ্যে বৃষ্টি নামলো অঝোর ধারায়। যেনো অসাধারণ এক ক্রিকেটারের বিদায়ে কেঁদে উঠলো প্রকৃতি। বন্ধ হয়ে গেলো খেলা। সাঙ্গাকারাবিহীন ওয়ানডে ক্রিকেট- এই সত্যটা মেনে নিতে যেনো কিছুটা সময় নিলো প্রকৃতিও।

আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের পর চিরদিনের জন্য বিদেয় নেবেন রঙিন পোষাকের ক্রিকেট থেকে। বিশ্বকাপেরর পরপরই যবণিকা টানবেন বর্ণিল ওয়ানডে ক্যারিয়ারের। সে হিসেবে সাঙ্গাকারা আউট হওয়ার সাথেসাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ ওয়ানডে ম‌্যাচ।

কারন এরআগেই যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিধ্বংসী বোলিংয়ে শ্রীলংকা দলের একাবারে নাকের জল চোখের জল এক হওয়ার অবস্থা। ওয়ানডে ক্রিকেট তাঁর এক রত্মকে বিদায় জানাচ্ছে প্রকৃতির একটু কাঁদার ইচ্ছে তো হতেই পারে। ফলে বৃষ্টি নামলো সিডনিতে। খেলা বন্ধ থাকলো মিনিট পনেরো।

ভিলিয়ার্স, ম্যাক্সওয়েল, গেইলদের মতো বিধ্বংসী-দানবীয় নন সাঙ্গাকারা। ব্যাটকে ছুড়ি বানিয়ে প্রতিপক্ষের বোলিংকে এফোড়ওফোড় করে দেন না। সাঙ্গাকারা শৈল্পিক। তার শিল্পীত ব্যাটিং যেনো তুলির আচড়। সাঙ্গাকারাও ছুঁড়ি চালান বটে, তবে সেটা কখনো হিংস্র মনে হয় না। ছুঁড়ি দিয়ে বার্থডের কেক কাটার মতো। সুন্দর। আরামদায়ক।

এই সৌন্দর্য দিয়েই ডি সিলভা-জয়সুরিয়া-মুরালিধরণ উত্তর যুগের শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন কুমারা সাঙ্গাগারা। পুরো বিশ্ব ক্রিকেটেরই নয় কী!

এই বিশ্বকাপের কথাই ভাবুন না, ক্যারিয়ারের একেবারে অন্তিমলগ্নে এসেও কী না করলেন এই বাঁ-হাতি। টানা চার ম‌্যাচে একেবারে গুণে গুণে চারটি সেঞ্চুরি করে বসলেন। বিশ্ব ক্রিকেটে যা এক অনন্য রেকর্ড। এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় এখনো শীর্ষে অবস্থান করছেন সাঙ্গাকারা। ৭ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৫৪১ রান। খেলা দেখে কার বুঝার সাধ্য, এই বিশ্বকাপ এই ব্যাটসম্যানের শেষ টুর্ণামেন্ট।

৪০৫ ম্যাচের দীর্ঘ ওয়ানডে ক্রিকেটে সাঙ্গাকারা রান করেছেন ১৪,২৭৯ যার মধ্যে ছিল ৯৩ হাফসেঞ্চুরি আর ২৫ সেঞ্চুরি।

সাঙ্গাকারার ব‌্যাটে ভর করেই প্রথম রাউন্ড শেষে দারুণ কিছু করার ইঙ্গিত দিয়েছিলো শ্রীলঙ্কা। অনেকে আবার ৯৬ এর পূনরাবৃত্তিও দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ক্রিকেট তো আর শেষ পর্যন্ত ওয়ান ম্যান শো নয়। দিনশেষে ক্রিকেট দলীয় খেলায়ই। পুরো ১১ জনের বিরুদ্ধে একা একজন আর কতটুকু পারে! যেমন আজকে পারলেন না সাঙ্গাকারা।

আজকেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ব্যাটসম‌্যানদের আসা যাওয়ার মিছিলের বিপরীতে দাঁড়িয়েছিলেন সাঙ্গাকারা। দলকে একটি সম্মানজনক স্কাের এনে দেওয়ার জন্য লড়াই চালিয়েছিলেন। কিন্তু বৈরি স্রোতে আর কতক্ষণই বা সাঁতার কাটা যায়, যখন দলের অপরাপর ব্যাটসম্যানরা রবীন্দ্রনাথের সেই গানকেই জাতীয় সঙ্গীত করে নিয়েছেন- 'শুধু আসা যাওয়া শুধু ভেসে যাওয়া।'

সাঙ্গাকারাও পারলেন না। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে তে দলের রান বাড়াতে গিয়ে মরকেলে পাতা ফাঁদে ধরা পড়ে গেলেন এই ব্যাটিং শিল্পী। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করে বিদয় নিতে হলো তাকে। এবং নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে বোধহয় বিদায় জানাতে হলো ওয়ানডে ক্রিকেটকেও। সমাপ্তি রেখা টানা হলো এক বর্ণিল ক্যারিয়ারের।

এমন এক ক্রিকেটারের বিদায়ে প্রকৃতি একটু কাঁদবে না কেনো? এই কষ্ট সইতে একটু সময় নেবে না কেনো বিশ্বকাপ! তাই প্রকৃতির কান্না বৃষ্টি হয়ে ঝরে বলে উঠলো- হে শিল্পী বিদায়!

আপনার মন্তব্য

আলোচিত