স্পোর্টস ডেস্ক

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:৫১

হাত ছাড়াই টেবিল টেনিস খেলেন যিনি

টেবিল টেনিস খেলতে ব্যবহার করা হয় দুই হাত- এটা সবারই জানা। যাদের দুটি হাতই নেই, তাদের জন্য টেবিল টেনিস খেলাটা অসম্ভব বলতে পারেন। কিন্তু এই অসম্ভব কাজটিই সম্ভব করে টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হয়ে বিরল এক উদাহরণটা সৃষ্টি করেছেন মোহাম্মদ হামাদতু।

মিসরের দুই হাতবিহীন হামাদতু (৪৩) প্যারা অলিম্পিকের টেবিল টেনিসে অংশ নিয়ে অবাক করে দিয়েছেন বিশ্বকে।

মাত্র ১০ বছর বয়সে এক দুর্ঘটনায় দুই হাত হারান হামাদতু। কিন্তু জীবনকে থেমে যেতে দেননি তিনি। বরং এমন একটা কাজে নিজেকে পারদর্শী করে তুললেন, যাতে দুই হাতের ব্যবহারটাই আসল। তিনি সার্ভ করেন পা দিয়ে বল তুলে আর ভলি করেন মুখ দিয়ে।

এই অসাধ্য কাজটিতে পারদর্শি হতে গিয়ে তাঁকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুরুর দিকে বগলের নিচে টিটি ব্যাট রেখে খেলতেন। পরে দাঁত দিয়ে কামড়ে ব্যাট ধরে খেলতে শুরু করেন। সার্ভ করার সুবিধার জন্য ডান পায়ে জুতো পরেন না। ডান পায়ের বুড়ো আঙুল আর তার পাশের আঙুলটির মাঝখানে বল ধরে তিনি বল সার্ভ করেন।

হামাদতুর খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে প্রেরণা হিসেবে ছিলেন তাঁর এক আত্মীয়। তিনি তাঁকে বলেছিলেন, "তোমার দুই হাত হয়তো নেই। কিন্তু দুটো পা তো আছে। তুমি ফুটবল খেল।"

গত ২০ বছর ধরে হামাদতুর কোচ হিসেবে আছেন হোসামেলদিন এলশোবরি। কোচ বলেন, "দুর্ঘটনার পরে প্রথম তিন বছর হামাদতু নিজেকে তাঁর বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী করে রেখেছিল। খুব মনমরা হয়ে থাকত। ওদের এক পারিবারিক বন্ধু ওকে ফুটবল খেলায় উৎসাহ দিয়েছিল। তবে ফুটবলটা সে খেলতে পারেনি।"

তবে শুরু করলেও ফুটবলটা চালিয়ে যেতে পারেননি হামাদতু। হোসামেলদিন বলেন, "ফুটবল খেলা ওর জন্য খুবই বিপজ্জনক। যেহেতু দুই হাত নেই, তাই মাটিতে পড়ে যাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানোটা ওর জন্য অসম্ভব ছিলো।"

প্যারা অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার স্বপ্নটা তিনি পূরণ করেছেন । যদিও অভিষেক ম্যাচে হেরে গেছেন হামাদতু। কিন্তু তাতে কোনো দুঃখ নেই তাঁর। তিনি জানান, "আমি মিসর থেকে এসে প্যারা অলিম্পিকের একজন সেরা খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলতে পেরেই খুশি। আমার হৃদয়ের অনুভূতিটা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"

ম্যাচ জয়ে নয়, আসলে জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েই অন্যদের প্রেরণা হয়ে গেলেন মোহাম্মদ হামাদতু।

সূত্র: এএফপি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত