০৭ জুন, ২০১৮ ২৩:১৬
গত বছরের শেষটায় চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে হঠাৎ করে প্রধান কোচের চাকরি ছাড়েন। গেল ৮ মাস ধরেই তাই প্রধান কোচের খোঁজে বাংলাদেশ। গেল মার্চে পল ফ্যারব্র্যাসের সাথে কথা হয়েছিল। তিনি প্রস্তাবটা নেননি। এছাড়া আরো কয়েকজনের সাথে আলোচনা হলেও ব্যাটে বলে মেলেনি। টম মুডি, কুমার সাঙ্গাকারা, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, জেফ মার্শ, মাহেলা জয়াবর্ধনেরাও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্স ঢাকায় ইন্টারভিউ দিয়ে গেলেও পরে তাদের আর ডাকেনি বিসিবি।
শেষে ২০২০ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত টাইগারদের প্রধান কোচের দায়িত্বটা পেলেন ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটকিপার রোডস। তাকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের কথাও বিবেচনায় ছিল।
আর দায়িত্ব পাওয়ার পর রোডস নিজেও বলছেন, বাংলাদেশকে নিয়ে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন।
গ্যারি কারস্টেনের সুপারিশ ও বিসিবির তালিকা- দুইয়ে মিলিয়ে বাংলাদেশের কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিলেন স্টিভ রোডস।
আগামী সপ্তাহে ৫৪ বছরে পা দিতে যাওয়া রোডস ইংল্যান্ডের হয়ে ১১ টেস্ট ও ৯টি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০০৬ সালে তিনি উস্টারশায়ারের কোচের দায়িত্ব পান। ইংলিশ কাউন্টি দলটির হয়ে ১৯৮৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি খেলেছেন। ছিলেন দলটির ক্রিকেট ডিরেক্টরও। কাজ করেছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও।
রোডসকে নিয়ে দিন দুয়েক আগে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘এ মুহূর্তে যে কয়েকজন কোচ পাওয়া গেছে তার মধ্যে রোডস অভিজ্ঞদের একজন। মূলত আমরা অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আপনারা জানেন, আগামী বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে হবে, এটাও বিবেচ্য বিষয়। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বা ওই ধরনের কন্ডিশনের কাউকে যদি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়; তাহলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।’
আগামী বছরের বিশ্বকাপই রোডসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে অবশ্য আশাই দেখাচ্ছেন বাংলাদেশের নতুন কোচ, ‘আমি একটু আগেই সভাপতি ও বোর্ড সদস্যদের বলে এসেছি, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো করেছে। তারা প্রমাণ করেছে, ইংলিশ কন্ডিশনে তারা ভালো করতে পারে। এমন একটা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ এক ব্যাপার ছিল। আমরা যদি সে পর্যন্ত বা এরও বেশিদূর যেতে পারি, আমি এখন সে পথ ধরেই ভাবছি, ফাইনাল পর্যন্ত গেলে সেটা বাংলাদেশের জন্য কেমন একটা স্বপ্ন হবে! এটা দারুণ একটা উপলক্ষ হবে।’
তিন ফরম্যাটে কোচের দায়িত্ব পালন করাটা কঠিন হবে না বলেই মনে করছেন রোডস, ‘এটিকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছি না আমি। আমি জানি, গ্যারি কারস্টেন প্রাথমিকভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবেছে। অনেক কোচই সব ফরম্যাট নিয়ে কাজ করছে। আমি খুব পরিশ্রমী ব্যক্তি। আমার মনে হয়, তিন ফরম্যাটে ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের যথেষ্ট সামর্থ্য আমার আছে।
আপনার মন্তব্য