১৬ জুন, ২০১৮ ০১:০০
খেলা প্রায় শেষ। ইনজুরি সময়ের ৫ম মিনিটের খেলা চলছিল তখন। গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গের দর্শকরা। কিন্তু নিয়তি তখনও চমক লিখে রেখেছিলেন যে, সেটাই বা ক’জন জানতো।
ম্যাচের একেবারে ইনজুরি সময়ে ফ্রি কিক পেলো ইরান। বাম উইং থেকে এহসান হাজসাফি ফ্রি কিক নিলেন। সেই বল ফেরাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে হেড করলেন আজিজ বোহাদ্দুজ। কিন্তু কী নিয়তি, বল ক্লিয়ার না হয়ে সোজা প্রবেশ করলো মরক্কোর জালেই। আত্মঘাতী এই গোলেই ইরানের কাছে হেরে গেলো মরক্কো।
শক্তিমত্তার বিচারে অবশ্য দুই দল কাছাকাছি ছিল। মরক্কোর ফিফা র্যাংকিং ৪১ আর ইরানের ৩৭। তবে আফ্রিকার দেশটির কিছু খেলোয়াড় ইউেরোপের বড় বড় ক্লাবে খেলে।
এছাড়া ম্যাচটি ছিল দুই মুসলিম প্রধান দেশেরও। এ নিয়ে ইরান বিশ্বকাপে পাঁচবার অংশগ্রহণ করছে। এরমধ্যে এই প্রথম পরপর দু’বার বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে এশিয়ার দেশটি। তবে পাঁচবার অংশ গ্রহণ করে দ্বিতীয়বারের মতো জয় পেল টিম মেলিরা। আর মরক্কো পেল হতাশা। ইরানের করা শেষ সময়ের কর্নার মুক্ত করতে গিয়ে হেড দিয়ে নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে দিন বুহাদোয়াজ। বল জালে জড়িয়ে যেতে হতাশায় মাটিতে মাথা নুইয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু তখন আর তার কিছু করার নেই।
অবশ্য কর্নার কিকটা অতটা ভয়ঙ্কর ছিল না।মাথা ঠাণ্ডা রাখলে সহজেই বিপদমুক্ত করতে পরতেন দ্য আটলাস লায়নরা। পুরো ম্যাচে বল দখলে দাপট দেখিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ৬৮ ভাগ বল রেখেছে নিজেদের পায়ে। সেখানে গোলে আক্রমণের বিচারে সমানে সমানে ছিল দু’দল। তবে মরক্কো ছোট ছোট পাসে বেশ ভোগান্তি দিয়েছে ইরানকে। ম্যাচে মোট ৪৬৬ টি সফল পাস দিয়েছে। সেখানে ইরানের সফল পাস মাত্র ২১৭টি।
আপনার মন্তব্য