২৪ জুন, ২০১৮ ১৭:৩৮
আইসল্যান্ডকে বিপক্ষে জোড়া গোল করে হারিয়ে দেয়া নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার আহমেদ মুসার চোখ এখন আর্জেন্টিনার দিকে। লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষেও এমন পারফরম্যান্স দেখাতে চান তিনি।
মুসা বলেন, ‘আমি মনে করি, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করাটা আমার জন্য কঠিন কিছু না। ম্যাচটির গুরুত্ব আমরা বুঝি। এটা বাঁচা-মরার ম্যাচ।’
মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিতলেই তারা পৌঁছে যাবে নকআউটে। ড্র করলেও সম্ভাবনা থাকবে। সেক্ষেত্রে তাকিয়ে থাকতে হবে ক্রোয়েশিয়া-আইসল্যান্ড ম্যাচের দিকে।
মুসাই একমাত্র নাইজেরিয়ান খেলোয়াড়, যিনি দুটি বিশ্বকাপেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন। গত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পোর্তো অ্যালেগ্রেয় আর্জেন্টিনার কাছে সুপার ঈগলরা হেরে যায় ২-৩ গোলে। ওই ম্যাচে নাইজেরিয়ার হয়ে দুটি গোল করেন মুসা।
তাই আরেকবার আর্জেন্টাইনদের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে চান তিনি। করতে চান জোড়া গোল। তবে এবার নিজেরা নয়, বিদায় করতে চান লাতিন আমেরিকান দলটিকে।
দুই বছর আগে মেসির বার্সেলোনার বিপক্ষেও লেস্টার সিটির হয়ে দুই গোল করেন মুসা। যদিও সেবার লেস্টার হেরে যায় ২-৪ গোলের ব্যবধানে। মেসির দলের বিপক্ষে বারবার গোল করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন মুসা।
একগাল হেসে তিনি বললেন, বার্সেলোনার সুপারস্টারের বিপক্ষে সব সময়ই তিনি গোল পান। তার কথায় ‘আমি মনে করতে পারি, চার বছর আগে ব্রাজিলে খেলার সময় মেসির দলের বিপক্ষে আমি ২ গোল করেছি। যখন লেস্টারে দল বদল করি, তখনো বার্সেলোনার বিপক্ষে ২ গোল করি, যে ম্যাচে মেসিও খেলেছেন। কাজেই আমি মনে করি, পরবর্তী ম্যাচে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে— সম্ভবত আমি আবারো ২ গোল করতে যাচ্ছি।’
নাইজেরিয়ার কোচ গারনত রোহর তার ‘তরুণ’ দলটিকে প্রশংসায় ভাসালেন। বলাবাহুল্য, নাইজেরিয়া দলটিই এ বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী, যাদের গড় বয়স ২৫ বছর। এ দলটিই আইসল্যান্ডকে চমকে দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিল।
জয় শেষে রোহর বলেন, ‘আমি আমার তরুণ দলটির বিনয়, পারস্পরিক নির্ভরতা ও লড়াকু মানসিকতা সবচেয়ে পছন্দ করি। বিশ্বকাপের আগেই আমি ভেবেছি, এ বিশ্বকাপে আমরা শিখতে যাচ্ছি। আমি মনে করি, ২০২২ বিশ্বকাপের সময় এ দলটি তৈরি হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের ভালো সুযোগ আছে আমাদের।’
আর্সেনাল খেলোয়াড় অ্যালেক্স আইওবির জায়গায় সুযোগ পাওয়া মুসাই নাইজেরিয়াকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখলেন, এখন তারা নকআউটে উঠলেও কেউ অবাক হবে না। পরশু রাতে বলগোগ্রাদ অ্যারেনায় ভিক্টর মোজেসের বল বাঁ পায়ে রিসিভ করার পর ডান পায়ে হাফ ভলিতে যে গোলটি করেন মুসা, তা রুখে দেয়ার সামর্থ্য ছিল না আইসল্যান্ড গোলকিপার হান্নেস থর হলডরসনের। এরপর ৭৫ মিনিটের সময় তিনি যে গোলটি করেন, তা এ টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। লং বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঝড়ের গতিতে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডার কারি আরনাসনকে কাটানোর পর গোলকিপারকেও বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠিয়েছেন তিনি।
এখন নিশ্চিতভাবেই তাকে নিয়ে আলাদা করে ছক কষতে হবে আর্জেন্টিনা কোচ ও খেলোয়াড়দের।
সূত্র: এএফপি
আপনার মন্তব্য