দেবকল্যাণ ধর বাপন

২৩ জুন, ২০২০ ২০:২০

এবার রাজপথে নয়, সিলেটে বিভিন্ন মন্দির চত্বরে ঘুরল রথের চাকা

করোনাভাইরাস আতঙ্কে এবার রাজপথে নয়। সিলেটে এ বছর অন্যরকম ভাবে পালিত হলো জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। এবার সিলেটের রথযাত্রা পালন হলো বিভিন্ন এলাকার মন্দির প্রাঙ্গণেই। মন্দির এলাকার উঁচু পাঁচিল ঘেরা চত্বরের ভিতরেই নিয়ম পালনে টানা হলো জগন্নাথদেবের রথ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জনসমাগম বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিলো বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। তারই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল জগন্নাথের রথযাত্রার ক্ষেত্রে। সিলেটের প্রতিটি মন্দিরেই মানা হয় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃক দেয়া নির্দেশনা। বিকেলে সিলেট নগরীর লালাদিঘির পাড়স্থ মন্দিরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রাকে রথে চাপিয়ে মন্দিরের এক পাশ থেকে রথ টান শুরু করে অন্য পাশে গিয়ে থামে রথ। আর সেখানেই হয় রথযাত্রার নিয়ম পালন।

এ ব্যাপারে লালাদিঘির পাড় মনিপুরী পাড়া মন্দিরের পুরোহিত রামগোপাল শর্মা বলেন, করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে আগেই রথযাত্রা বন্ধ করার নির্দেশ এসেছিলো। সেই নির্দেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আজ মন্দির প্রাঙ্গণেই রথযাত্রার বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর পর রীতি মেনে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রাকে সুদৃশ্য রথের চাপানো হয়। নিয়ম মেনে মন্দির চত্বরেই গড়ানো হয় রথের চাকা। মন্দিরের এক পাশ থেকে শুরু করে অন্য পাশে গিয়ে রথ থেমে যায়। এরপর জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ভক্তদের কোলে চেপে মূল মন্দিরে ফিরে এসেছে।

এদিকে এবছরের রথযাত্রা আড়ম্বরহীন হওয়ায় মন খারাপ জগন্নাথদেবের ভক্তদেকূলের। তবে তারা বলছেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে অনেক কিছুই মেনে নিতে হচ্ছে। রথযাত্রার উৎসব তাই বন্ধ থাকল। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরগুলিতে আবারও ধুমধামের সঙ্গে রথযাত্রা পালন করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

একই চিত্র দেখা যায় নগরীর শ্রীশ্রী কৃষ্ণ বলরাম জিউর আখড়া, লামাবাজার, সিলেট; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউড় আখড়া, আম্বরখানা, সিলেট; শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ জগন্নাথ মনিপুরী মন্দির, শিবগঞ্জ, সিলেট; শ্রীশ্রী নরসিংহ জীউর আখড়া, কালীঘাট, সিলেট; শ্রীশ্রী মহাপ্রভুর মন্দির, রাজবাড়ি, সিলেট; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া, নয়াবাজার, সিলেট; আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), সিলেট; শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির নরসিংটিলা, উপরপাড়া, দলদলী চা বাগান, সিলেট; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া, কালীঘাট সিলেট; শ্রীশ্রী মহাপ্রভুর মন্দির, নরসিংটিলা, নীচপাড়া, সিলেট; শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আখড়া, পল্লবী আ/এ, পনিটুলা, সিলেট; লালা দিঘীরপাড় মনিপুরী পাড়া মন্দির পরিচালনা কমিটি, সিলেট; শ্রীশ্রী মহাপ্রভুর মন্দির, সাগরদিঘীর পাড়, সিলেট; শ্রীশ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া, মাছিমপুর, সিলেট; শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির, বড়বাজার, সিলেট; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া, সুবিদবাজার, সিলেট; শ্রীশ্রী মহাপ্রভু জিউর আখড়া, ২৮, ছায়ানীড়, লামাবাজার, সিলেট; শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির, দক্ষিণকাছ, সিলেট; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া, জিন্দাবাজার, সিলেট; শ্রীশ্রী ব্রজনাথ ব্রজেশ্বরী মন্দির, শিবগঞ্জ, সিলেট; শ্রীশ্রী নিম্বার্ক আশ্রম, সিলেট ও সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটি, লামাবাজার, সিলেটের মন্দিরগুলোতে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে জানান, সারাদেশের পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এবারের রথযাত্রা সীমিত পরিসরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেবল মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী মন্দিরের ভেতরে রথটান ও পূজাসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে মন্দিরের বাইরে কোনো ধরনের শোভযাত্রা কিংবা ভক্ত সমাবেশ করা হয়নি।

রজত কান্তি গুপ্ত আরও বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ জায়গা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পালন করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত