জুড়ী প্রতিনিধি

২৫ জুন, ২০২০ ১৯:৪৬

জুড়ীতে টেকনিক্যাল কলেজের নির্মাণাধীন ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় একটি নতুন টেকনিক্যাল কলেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম তৈমুছ আলী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। গত ২৩ জুন মাটি মিশ্রিত পাথর দিয়ে কাজ করার অভিযোগে এলাকাবাসীর আপত্তিতে কাজ বন্ধ থাকলেও আজ ২৫ জুন বৃহস্পতিবার থেকে আবারও কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থ বছরে (২০১৮-১৯) ১৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের কাজ পায় ‘এম এন এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের ঢাকার দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি অর্থ বছরের (২০১৯-২০) জুন মাসে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। কাজের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৩ জুন সকাল ৯টার দিকে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলার পাঁচ হাজার ৭০০ বর্গফুট আয়তনের ছাদের ঢালাই কাজ শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

নির্মাণাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ ঢালাইয়ে কাদামিশ্রিত পাথর ব্যবহার করা হচ্ছিল। পরে এলাকাবাসীর আপত্তিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখে। ঘটনার দুইদিন পর সেই পাথর দিয়েই আবার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলাকাবাসী জানান, ঢালাই কাজের জন্য আনা নির্ধারিত আকারের পাথরে প্রচুর পরিমাণে কাদা মেশানো ছিল। অথচ পাথর না ধুয়ে তা সিমেন্ট ও বালুর সঙ্গে মিশ্রণযন্ত্রে ফেলা হচ্ছিল। এভাবেই ঢালাই কাজ চলছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় জায়ফরনগর ইউপির চেয়ারম্যান দুইজন ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে সেখানে পাঠান। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোকজন কাদামিশ্রিত পাথর ব্যবহারে কোনও সমস্যা হবে না বলে দাবি করেন। এ নিয়ে দুইপক্ষের তর্কাতর্কি হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইউপি সদস্যরা কাদামিশ্রিত পাথর ব্যবহারের বিষয়টি মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। পরে তারা কিছু পাথরের নমুনা ইউএনওর কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় ইউএনও কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ভালোভাবে পাথর পরিষ্কার করার পর ঢালাই কাজ শুরু করতে বলেন। কিন্তু তা না করে পুনরায় ঢালাই কাজ শুরু হয়। বিকেল চারটার দিকে জায়ফরনগর ইউপির চেয়ারম্যান মাছুম রেজা ঘটনাস্থলে গিয়ে এ অবস্থা দেখে পুনরায় কাজ বন্ধ করে দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম রেজা বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মুঠোফোনে বলেন, ‘পাথরে প্রচুর মাটি মেশানো। দায়সারাভাবে সেগুলো ধোয়া হচ্ছিল। এসব পাথর ব্যবহারের কারণে ঢালাই দুর্বল হবে। ভবিষ্যতে ছাদের ক্ষতি হতে পারে। ইউএনও স্যারের নির্দেশনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই, কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।’

কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জুড়ী কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ রাহী বলেন, পাথর ধোয়ার কাজটি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের। তারা এ কাজটি ঠিকভাবে করেননি। এলাকাবাসী আপত্তি জানানোয় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছাদের এক হাজার ৮০০ বর্গফুট জায়গায় ঢালাই হয়ে গেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) পাথর ধোয়ার পর তারা কাজ শুরু করেছে।

ইউএনও অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। তাদের চোখ ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। পাথর ধোয়ার পর তা দেখে কাজ শুরু করতে বলা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত