১৫ অক্টোবর, ২০১৫ ১৪:২১
বিনা বিচারে ২২ বছর সিলেট কারাগারে বন্দি থাকার পর আজ মুক্তির স্বাদ পেলেন ফজলু মিয়া। মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিয়ে তিনি হয়ে পড়েন আবেগ আপ্লুত, তার চোখের কোণায় চিক চিক করতে থাকে এক ফোঁটা জল। আজ বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২ টার পর তিনি (ফজলু মিয়া) সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম জহুরুল হক চৌধুরীর আদালতে জামিন পাওয়ার পর আজ তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ফজলু মিয়া মুক্তি পাওয়ার পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এড. মিসবা উদ্দিন সিরাজ সহ বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
সদ্য মুক্তি পাওয়া ফজলু মিয়াকে তেতলি ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উসমান আলী। উসমান আলী এ ব্যাপারে সিলেটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফজলু মিয়া নতুন করে পুনর্বাসিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় থাকবেন। তার সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, এবং মামলা নিষ্পত্তি করার যাবতীয় কার্যকলাপ ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে করা হবে।
এর আগে ফজলুর নিযুক্ত এডভোকেট জ্যোৎস্না ইসলাম তেতলী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও ফজলুর সহপাঠী কামাল উদ্দিন রাসেলের জিম্মায় জামিন আবেদন করেন।
বেসরকারী সংস্থা ব্লাস্টের সহায়তায় মামলার ধার্য তারিখে আইনজীবি জ্যাত্স্না ইসলাম ফজলু মিয়ার নিজ গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কামাল উদ্দিন রাসেলের জিম্মায় জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তাকে আটক পুলিশ। পরে পাগল আইন(মানসিক স্বাস্থ্য আইন) এর ১৩ ধারায় গেফতার দেখিয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
আপনার মন্তব্য