জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর

২০ জুলাই, ২০২০ ১৭:২৩

তাহিরপুরে তৃতীয় দফায় পানি বৃদ্ধি, ফের বন্যার আশঙ্কা

সুনামগঞ্জের সন্নিকটে অবস্থিত ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রোববার থেকে তৃতীয় দফায় জেলার তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীসহ সীমান্ত এলাকার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে করে ফের বন্যার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমার পানি বিপদসীমার ৭ দশমিক ৮০ পয়েন্ট অতিক্রম করে বিপদসীমার ৮ দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তা ছাড়া গড় ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতও হয়েছে। এতেও আরও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা যায়,গত ১৫ জুন প্রথম দফা বন্য এবং গত ১০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দেয়। তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলের বাড়ি ঘরের মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। অনেক এলাকায় বন্যার পানি এখনো রয়েছে। ওই দুই দফা বন্যার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি উপজেলাবাসী। এর মধ্যে তৃতীয় দফা বন্যার আশঙ্কায়  উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে হাওরাঞ্চলে মানুষের মাঝে।          

আরও জানা যায়, তৃতীয় দফার আবারও বন্যায় হলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন এক লাখ ৬৯ হাজার পরিবারকে এক কেজি করে চাল বিতরণ করেছে। দুর্গত এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট ও খাওয়ার স্যালাইন বিতরণ করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে শুকনো খাবার, গো-খাদ্যসহ শিশুদের জন্যও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল বলছেন, ভারতের মেঘালয়, চেরাপুঞ্জি এলাকায় পাহাড়ি বন, গাছ নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে, তৈরি করা হচ্ছে সড়ক ও উন্নয়ন কাজ। ফলে সেখানে বৃষ্টি হলেই বাংলাদেশের ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল বিনাবাধায় সরাসরি চলে আসে। সেই সাথে প্রতি বছরের বন্যায় পলি জমে কমছে হাওরের নাব্যতা। উজানের পাহাড়ি বন বাঁচাতে না পারলে আগামীতে এই জেলার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তাই পাহাড়ি ঢলে থেকে বাঁচতে ও পরিবেশ রক্ষায় দু দেশে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন সবাই।

টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম, মজিবুর সহ অনেকেই জানান, গত দু’দফার বন্যায় এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথের (সওজ) গুরুত্বপূর্ণ  রাস্তাঘাট ভেঙে উপজেলা ও  জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অর্ধশতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। হাওরের ডেউশে বসত বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। আবারও বন্যা হলে দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।    

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ও সুনামগঞ্জে ভারি বর্ষণে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায়  আবার বন্যা দেখা দিতে পারে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ জানান, তৃতীয় দফার বন্যার জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত রাখা আছে।বন্যায় দুর্গত মানুষের পাশে আমিসহ আমাদের প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাগন প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষের খোঁজ খবর নিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সহায়তা করছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত