২১ জুলাই, ২০২০ ০০:২৫
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক তরুণী। বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ডালি আক্তার নামের এই তরুণী। অনশনকারী তরুণী তাহিরপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ডালি আক্তার(২০) আর কথিত প্রেমিক একেই গ্রামের একলাছ উদ্দিনের ছেলে আরিফুল হক(২৩)।
এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ছিলানী তাহিরপুর গ্রামে।
এ ঘটনায় সোমবার বিকালে তাহিরপুর থানার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মেয়ের ভাই টিপু মিয়া।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের আরিফুল হক ও ডালি আক্তার একেই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় তারা দুজনের ৮ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ঘরে উঠে। এক প্রর্যায়ে গত ৮মাস পূর্বে প্রেমিকা ডালি আক্তারকে তার পরিবারের লোকজন অন্যত্র বিয়ে দেয়। এরপরও তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক রয়ে যায়। বিয়ের ৩মাস পর প্রেমিক আরিফুল হক বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বামীর কাছ থেকে তালক করায়। তালাক করার সম্পূর্ণ টাকা বহন করে আরিফুল। এরপর তাদের সম্পর্ক ভালই চলছিল। কিছু দিন ধরে বিয়ের জন্য প্রেমিকা ডালি চাপ দিলে প্রেমিক গত কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে গত ১৯জুলাই সন্ধ্যা সাতটা থেকে ডালি আক্তার প্রেমিক আরিফুল হকের ঘর বিয়ের দাবীতে অনশন শুরু করে। এরপর পর থেকে বাড়িতে তালা দিয়ে প্রেমিক আরিফুল ও তার মা-বাবা গা ঢাকা দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ার কারনে কেউ কোন কথাও বলছে না। অনশনকারী মেয়ের কাছে কাউকে যেতেও দিচ্ছে না।
এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা গোলাম কিবরিয়া জানান, আমি ছেলে ও মেয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি দু পক্ষের সাথে কিন্তু ছেলের মা-বাবা অনশনকারী মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে রাজী না। কিন্তু মেয়ে পরিবার বিয়ে দিতে রাজি। আর বিয়ে না হলে মেয়ে ছেলের বাড়িতেই অবস্থান করবে।
স্থানীয় মেম্বার সাজিনুর মিয়া জানান, এই ঘটনা শুনেছি। ছেলের বাবা আমার কাছে এসেছিলেন আমি বলেছি যে ছেলেকে আসতে বলেন। সে এসে এর সমাধান করুক। সে না আসলে ত সমাধান হবে না। তবে মঙ্গলবার দুপুরে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের পরিষদের ছেলে ও মেয়ের পক্ষের লোকজন নিয়ে বসার কথা রয়েছে।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান খসরুল আলম জানান, এমন একটি খবর লোকজন আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাটি গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করছি।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয় নিয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে।
আপনার মন্তব্য