বানিয়াচং প্রতিনিধি

২১ জুলাই, ২০২০ ১৮:৫৪

হবিগঞ্জে শিল্পকলার একাডেমির অনুদান পাননি অনেক গুণী শিল্পী

করোনাকালে অসহায় ও অস্বচ্ছল শিল্পীদের তালিকা করে তাদেরকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

তবে অভিযোগ রয়েছে, জেলার নামকরা ও স্বনামধন্য শিল্পীদের নাম বাদ দিয়ে অনুদান প্রদান করা হয়েছে। গুণী শিল্পীদের নাম তালিকায় না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র রসালো আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের খ্যাতিমান শিল্পী স্বদেশ দাস, আবু মোতালেব খান লেবু, আকরাম আলী, কাজল গোপ, প্রাণ কৃষ্ণ ও বাউল মাতাল প্রাণেশ মতো শিল্পীদের বাদ দিয়ে হবিগঞ্জের সংগীতাঙ্গন কল্পনা ই করা যায়না। তবে মজার বিষয় হলো এই নামকরা শিল্পীদের নাম নেই শিল্পকলার সহয়তার তালিকায়।

অভিযোগ রয়েছে শিল্পকলা একাডেমির মেয়াদোত্তীর্ন এডকম কমিটির সদস্যরা নিজেদের পছন্দমতো শিল্পীদের নাম দিয়ে অনুদান প্রদান করেছেন।

হবিগঞ্জের গুণী শিল্পীদের মধ্যে একজন কাজল চন্দ্র গোপ। হবিগঞ্জের সংগীত জগতের প্রিয় নাম। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে গানের সাথে যুক্ত। বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনের তালিকা ভুক্ত কন্ঠশিল্পী তিনি।

করোনাকালে সঙ্কটে পড়া শিল্পীদের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় কর্তৃক সব জেলাতেই ৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেছেন। সব জেলায় একবারে প্রদান করা হলেও হবিগঞ্জের বর্তমান জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে হবিগঞ্জের শিল্পীদের জন্য দুইবার এই অনুদানের ব্যবস্থা করেন। দুই বারে ৯০ জন শিল্পীকে ৫হাজার টাকা করে ৪লাখ ৫০হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

তালিকায় নাম না থাকা ও অনুদান না পাওয়ার নিয়ে গুণী শিল্পী কাজল চন্দ্র গোপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটা পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন- আর কতো দিন গান করলে সংগীত শিক্ষা দান করলে আমিসহ তালিকায় নাম না থাকা শিল্পীরা স্বীকৃতি পাব? কষ্ট সম্মানীর জন্য নয় সম্মানের জন্য। দুই দফা নব্বই জন শিল্পীকে প্রণোদনা সম্মানী দিলেও এর মধ্যে আমাদের নাম না থাকায় খুব কষ্ট পেলাম।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আর কতো দিন গান করার পর শিল্পী হিসেব স্বীকৃতি হবিগঞ্জ থেকে পাব। এটা ফেসবুকে দেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনেকেই তাদের মনের ক্ষোভ জানিয়ে তার পোস্টোর নিচের কমেন্ট করেন।

একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি শাকিল চৌধুরী তার কমেন্টে বলেন- যারা কাজ করে তাদের কখনই মূল্যায়ন করা হয় না। আর যদি তেল মারেন তাহলে মূল্য থাকব।

আরেক সাংবাদিক এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি এসএম সুরুজ আলী বলেছেন- হবিগঞ্জের সংগীত জগতের একজন অভিভাবককে যারা মূল্যায়ন করতে পারলো না তারা অকৃতজ্ঞ ছাড়া আর কিছু নয়। আশা করি কাজল দা কে সম্মানিত করা হবে।

কাজল চন্দ্র গোাপের পোস্টে তিনজন শিল্পীর কথা উল্লেখ করা আছে যারা প্রণোদনার টাকা পাননি।

বিষয়টি নিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমির এডহক কমিটির সদস্য শামিম আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, তালিকা বিভিন্নভাবে করা হয়েছে। কাউকে ইচ্ছে করে বাদ দেয়া হয়নি। যারা বাদ পড়েছে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তাদেরকে আগামী ঈদের আগেই প্রণোদনা দেয়ার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত