২২ জুলাই, ২০২০ ০০:১৫
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের নৈশপ্রহরি রমজান মিয়ার সদ্য বিবাহিত মেয়ে নিখোঁজ হন ১১দিন আগে। তাকে খোঁজে দিতে র্যাবের নামে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ায় সমবায় অফিসের কর্মচারি ভাইবোনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রুজিনা আক্তার (৩০) ও তার ছোটভাই রাজিব সরকার (২৫)।
রুজিনা ছাতক উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) আর রাজিব সিলেট জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত।
সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার (২১জুলাই) বিকেল আদালতের মাধ্যমে ভাইবোন দু’জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি বি-বাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানাধীন ভবানীপুর গ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা বিশ্বনাথে বসবাস করছেন। প্রায় দু’মাস আগে বিশ্বনাথ থেকে বদলি হয়ে ছাতক উপজেলা সমবায় অফিসে যোগদান করেছেন রুজিনা। তবে, তাদের বাসা এখনও রমজান মিয়ার পাশেই বিশ্বনাথে রয়েছে। বিশ্বনাথ সমাজসেবা অফিসের নৈশপ্রহরি রমজান মিয়ার গ্রামের বাড়িও একই এলাকায়।
জানা গেছে, গত ৫ জুন গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আলমগীর হোসেন নামের নিকটাত্মীয়ের কাছে নিজের মেয়ে কোহিনুর আক্তার আশাকে (২১) বিয়ে দেন রমজান মিয়া। গত ১৯ জুন স্বামীসহ বিশ্বনাথে বাবার বাসায় আসেন কোহিনুর। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে কোহিনুর বাসা থেকে নিখোঁজ হলে পরদিন ১০ জুলাই বিশ্বনাথ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন রমজান আলী। এর একদিনপর ১১ জুলাই রুজিনা আক্তার রজমান মিয়ার বাসায় গিয়ে কোহিনুরকে উদ্ধার করা যাবে বলে জানান। তারপর সিআইডি ও ডিবি পুলিশের কথা বলে রমজান মিয়ার নিকট থেকে তিনি ১৩হাজার টাকা নেন। আরও দু’দিন পর রুজিনা রমজান মিয়াকে বলেন কোহিনুরকে উদ্ধার করতে হলে র্যাবকে ৫লাখ টাকা দিতে হবে। এতে রমজান অপারগতা জানালে রুজিনা রমজানের জামাতা আলমগীরকে ফোনে ধমক দেন এবং তাকে অপহরণের হুমকি দেন। মেয়েকে অপহরণ ও র্যাবের নামে সুক্তিপণ চাওয়া এবং জামাতাকে অপহরণের হুমকি দেওয়ায় ভাইবোনকে আসামি করে রমজান মিয়া বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১৫)।
বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, মুক্তিপণ ও অপহরণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে ভাইবোন দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য