২২ জুলাই, ২০২০ ০১:৫৫
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পলিথিন আটকের জেরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের মামলায় কারাগারে থাকা প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামের (৩৮) লাইসেন্স করা দুটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে অস্ত্র দুটির ‘ব্যলাস্টিক’ পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় সাইদুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহারে প্রকাশ্যে গুলি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই রাত সাড়ে নয়টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সাইদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৯ জুলাই সকালে বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে সাইদুলকে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইদুলের নামে লাইসেন্স করা পিস্তল ও শটগান (দোনালা বন্দুক) তার বাড়ি থেকে জব্দ করেন।
এরপর ১৬ জুলাই জব্দ করা অস্ত্র দুটি পরীক্ষার জন্য বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অস্ত্র দুটি থেকে গুলি হয়েছে কিনা পরীক্ষার জন্য আদালত অনুমতি দেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে অস্ত্র দুটির ‘ব্যলাস্টিক’ পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘দুটি মামলার প্রধান আসামি সাইদুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার দুটি অস্ত্র জব্দ করা হয়। যেহেতু মামলায় সাইদুলের বিরুদ্ধে গুলি করার অভিযোগ আছে। এ জন্য গত ১৬ জুলাই জব্দ করা অস্ত্র দুটি পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। অনুমতি পাওয়া গেছে। দুটি অস্ত্র থেকে গুলি হয়েছে কিনা পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই পৌর শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭০ মণ পলিথিন জব্দ ও জরিমানার জের ধরে ২ জুলাই সকালে বড়লেখা শহরের উত্তর বাজার এলাকায় একজনের উপর হামলা ও পরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শামীম আহমদ বাদী হয়ে ১৮ জনের ও জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৫ জনের নামোল্লেখ করে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। দুটি মামলায় বাদীরা ঘটনার সময় প্রকাশ্যে আগ্নেআস্ত্রসহ হামলার অভিযোগ এনে শাহজালাল শপিং সিটির অংশীদার সাইদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই পুলিশ ৩জনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে সাইদুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সিলেটসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়।
আপনার মন্তব্য