২৩ জুলাই, ২০২০ ১২:৩৯
উপুর্যুপরি তৃতীয় দফা বন্যায় ছাতক উপজেলার চারিদিকে থৈ থৈ করছে পানি। বারবার ফিরে আসা বন্যায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। গত ২৫ দিন ধরে উপজেলার প্রায় ৫০ শতাংশ পরিবারে ঘরের ভেতরে বন্যার পানি রয়েছে। মাঝে মধ্যে সামান্য পানি কমলেও তা আবার বেড়ে ঘরে ভেতর ঢুকে পড়েছে। তছনছ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে দিনানিপাত করছেন বন্যা কবলিত কয়েক লাখ মানুষ।
প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যার ভোগান্তি শেষ হতে না হতেই তৃতীয় দফা বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার মানুষ। কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট, শত শত ঘরবাড়ি ও বসতভিটা বানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত গেছে। রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। টানা দুই দফা বন্যায় গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙ্গে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখন তৃতীয় দফা বন্যায় এসব সড়কের অস্থিত্ব বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। ঘন-ঘন বন্যায় ভোগান্তির পাশাপাশি চরম খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানির সংকটে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষ। এভাবেই উপজেলার শহর ও গ্রামের মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের নয়া লম্বাহাটি গ্রামের হাজি আমিনুল হক জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে পানি কিছুটা কমতে দেখা গেছে। বাড়ি-ঘরে পানি, চলাচলের সড়কে কোমর পানি। এমনকি গ্রামের মসজিদেও টানা তৃতীয়বার পানি উঠেছে। যারা পানির জন্য ঘরে থাকতে পারছেন না, তারা নয়া লম্বাহাটি-করছখালী মহিলা মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। এ বছরের বন্যায় ঘর-বাড়ি ও রাস্তাঘাটের বেশি ক্ষতি হয়েছে। হাসনাবাদ-নয়া লম্বাহাটি রাস্তার অনেক অংশ জমির সাথে মিশে গেছে।
উত্তর খুরমা ইউনিয়নের শৌলাগাও গ্রামের মিজাজ মিয়া জানান, গ্রামের প্রত্যেকের ঘরে বন্যার পানি। কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। খাবার নিয়ে মানুষ মারাত্মক সংকটে। জানা মতে এই বন্যায় অনেক মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
ইব্রাহীম আলী নামের একজন জানান, এবার ভয়াবহ বন্যা পিছু ছাড়ছে না। মানুষ এমনিতেই করোনায় ঘরবন্দি। এখন বন্যায় ঘরে বা আশ্রয় কেন্দ্রে বন্দি। মানুষের রোজগার নেই। দৈনন্দিন খাবার সংগ্রহ নিয়ে খুবই সংকটে। নিজেও খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। সরকারের পক্ষ থেকেও কোন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।
কৃষক জহর আলী জানান, প্রথম বন্যায় ঘরের ভেতর বন্যার পানি ছিল হাটুর উপরে। বারান্দা থেকে নামতে না নামতেই ২য় বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করেছে। এখন ৩য় দফা বন্যার পানি ঘরে আছে। এখন পর্যন্ত সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। কি করবো দিশেহারা হয়ে গেছি।
উপজেলা আনসার ভিডিপি কোম্পানি কমান্ডার ফারুক আহমদ জানান, ঘর-বাড়িতে পানি থাকায় মানুষ রোজগার করতে পারছেন না। জীবিকা নিয়ে অনেক মানুষ সমস্যায় আছেন। বন্যার পানি ঘরে ঢুকায় আসবাবপত্র নষ্ট, রান্না করাসহ নানা সমস্যায় পড়েছেন মানুষজন।
আপনার মন্তব্য