২৫ জুলাই, ২০২০ ০২:০৫
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স 'আলোয় আলো' প্রকল্পের কোভিড-১৯ জরুরী সহায়তা কার্যক্রমের তৃতীয় দিনে সুরক্ষাবিধি মেনে জাগছড়া চা বাগানে ৫২৮ টি চা শ্রমিক পরিবারের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
চাইল্ড ফান্ড কোরিয়ার অর্থায়নে এবং এডুকো-বাংলাদেশের সহযোগিতায় কোভিড-১৯ জরুরী সহায়তা কার্যক্রম 'ইমার্জেন্সি ক্যাশ/ফুড এন্ড হাইজিন মেটেরিয়াল সাপোর্ট ফর দ্য কোভিড-১৯ এফেকটেড মোস্ট ভালনারেবল চিলড্রেন এন্ড কমিনিউটি ইন বাংলাদেশ' প্রকল্পের আওতায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স তাদের 'আলোয় আলো' প্রকল্পের আওতাভুক্ত চা বাগান ও হাওড় এলাকায় কোভিড-১৯ জরুরী সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
‘আলোয় আলো’ প্রকল্পটি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৩০টি চা বাগান ও ২টি হাওর এলাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোভিড-১৯ জরুরী সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় চা বাগানের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সমগ্রী এবং হাইল হাওড় ও বাইক্কা বিলের জেলে সম্প্রদায়ের দায়ের জন্য খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ করা হয়।শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ’ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ ৪টি চা বাগান ও ১টি হাওর এলাকায় ২১৩৩টি পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন কর্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
আজ ২৩ জুলাই শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৮নং কালীঘাট ইউনিয়নের জাগছড়া চা বাগানে দরিদ্র চা শ্রমিকের হাতে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের পক্ষ হতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও শিক্ষা) জনাব মল্লিকা দে। বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় জাগছড়া চা বাগান দুর্গামন্দিরে আয়োজিত বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ৫২৮টি চা শ্রমিক পরিবারের মধ্যে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- ঢাকনা ও পানির ট্যাপযুক্ত ১২লি. এর বালতি, ২টি করে সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার ও ২টি করে রিইউজেবল মাস্ক।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর আলোয় আলো প্রজেক্ট অফিসার মোঃ রুবাইয়াত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় এবং ইউপি সদস্য ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক বাবু পরেশ কালিন্দীর সভাপতিত্বে উক্ত সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও শিক্ষা) জনাব মল্লিকা দে, বিশেষ অতিথি ছিলেন জাগছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোঃ নূরনবী ডালিম, এডুকো বাংলাদেশের লাইভলিহুড স্পেশালিষ্ট মোঃ তাওহিদ ফেরদৌস, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স 'আলোয় আলো' প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর এবং অফিস ইন চার্জ চাঁদনী রায়, প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর মোঃ তোফাজ্জল হোসাইন, এবং প্রজেক্ট একাউন্টেন্ট শহিদুল আলম মুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব মল্লিকা দে বলেন মৌলভীবাজারের প্রাণকেন্দ্র হলো চা বাগান এলাকাগুলো। চা বাগানের অবহেলিত মানুষের জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থাও করোনার এই সময়ে সহায়তার হাত প্রসারিত করেছে। প্রধান অতিথি চাইল্ডফান্ড কোরিয়া, এডুকো ও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সেকে তাদের এই মহতী উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাগছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোঃ নূরনবী ডালিম ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের পাশাপাশি দেশী বিদেশী অন্যান্য বেসরকারী সংস্থাকেও চা বাগানের অবহেলিত জনগোষ্ঠিকে করোনাকালে সহযোগীতার আহ্বান জানান। ইউপি সদস্য বাবু পরেশ কালিন্দী চা বাগানের মেহনতি মানুষের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট করোনাকালীন চা বাগানে তাদের নিরাপদ জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরেন।
আলোয় আলো প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর চাঁদনী রায় বলেন যে, ''এখানে আমরা একটি মহৎ উদ্দ্যেশ্যে একত্রিত হয়েছি তাই এখানে মাস্ক পরে আসা, এসে হাত ধোয়া ও সামাজিক দুরত্ব রক্ষা করে দাড়ানোসহ বিভিন্ন সুরক্ষাবিধির উপর আমরা ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাইনা আমাদেরই ছোট্ট কোন ভুলের কারনে এই মহৎ উদ্দেশ্য আমাদেরই কারো জীবনে হিতে বিপরীত ডেকে আনুক। করোনাকালীন এই দূর্যোগময় পরিস্থিতিতেও 'আলোয় আলো' প্রকল্পের পাশে থেকে কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য উপস্থিত সকল অংশীজনের উদ্দেশে তিনি ধন্যবাদ এবং আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ''আলোয় আলো'' কর্মসুচীর সুরক্ষাবিধি মেনে বিতরণ কার্য সম্পাদনের বিষয়টি উপস্থিত সকলেরই নজর কাড়ে। দ্বিতীয়পর্বে কোভিড ১৯ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যায়ক্রমে ৫২৮ টি চা শ্রমিক পরিবারের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এ পর্যন্ত ভাড়াউড়া, খাইছড়া ও জাগছড়া চা বাগানে মোট ১৪৭৩ টি দরিদ্র পরিবারে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী এবং হাইল হাওড়ে ১৩৩ টি পরিবারে জরুরী খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে। আগামী ২৬শে জুলাই মাজদিহি চা বাগানে আরো ৫২৭টি পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরনের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হবে। এই প্রকল্পের আওতায় এডুকো্র চারটি সহযোগী সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, আইডিয়া, এমসিডা ও প্রচেষ্টা-এর মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট ৯২৬৯ টি পরিবারকে সহায়তা প্রদান করছে।
আপনার মন্তব্য