১৯ অক্টোবর, ২০১৫ ০০:৩৫
এ মাসেই হতে পারে দেশজুড়ে আলোচিত শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার রায়। মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। রবিবার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বাদি পক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন, এ মাসেই আলোচিত এই মামলার রায় হতে পারে।
আর আসামী পক্ষের আইজীবীরা বলেছেন, রায় যা-ই হোক, উচ্চ আদালতে আপীল করবেন তারা।
গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রাজনকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে টনক নড়ে প্রশাসনেরও। আসামীদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিচার কাজও এগিয়ে চলছে দ্রুত।
সৌদি আরব থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মামলার প্রধান আসামী কামরুল ইসলামকেও। যদিও এখনো পলাতক রয়েছে এই মামলার দুই আসামী শামীম ও পাভেল।
রাজনের বাবার নিযুক্ত আইনজীবী শওকত আহমদ বলেন, রবিবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আদালত ২০ অক্টোবর আসামীদের মতামত প্রদান ও ২৫ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এরপরই রায়ের তারিখ নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, রায়ের তারিখ নির্ধারণ সম্পূর্ণ আদালতের ইচ্ছা। তবে আমরা আশা করছি, এই মাসেই রায় হয়ে যাবে।
একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলীও।
রবিবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে কামরুল ইসলামের নিযুক্ত আইনজীবী আলী হোসেন বলেন, বিচার শেষে হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, রায় যা-ই আসুক আমরা উচ্চ আদালতে আপীল করবো।
রবিবার সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে এই মামলার তদন্তকারী তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার সাক্ষ্য প্রদান করেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। ১ অক্টোবর থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। টানা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৮ অক্টোবর তা শেষ হয়।
এই মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- কামরুল ইসলাম, তার ভাই মুহিদ আলম, আলী হায়দার, তাজ উদ্দিন আহমদ বাদল, পাভেল, শামীম, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আছমত উল্লাহ ও আয়াজ আলী।
আপনার মন্তব্য