সিলেটটুডে ডেস্ক

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:১৫

‘টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ বজায় রেখেই পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে’

টাঙ্গুয়ার হাওর একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। এর পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তাই হাওরটিকে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় এনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষা করতে হবে। আমরা পর্যটনকে উৎসাহিত করি, তবে তা অবশ্যই হতে হবে পরিবেশসম্মত। পরিবেশ ধ্বংস করে পর্যটন টিকে থাকতে পারে না। টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ বজায় রেখেই পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ সুরক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ এসব কথা বলেন।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পীযূষ পুরকায়স্থ টিটুর পরিচালনায় সভায় তাহিরপুরের সুধীজন পেশাজীবী ও টাঙ্গুয়ার হাওরের নৌকার মাঝিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রতিটি নৌকায় যতটি প্লাস্টিক বোতল, ওয়ান টাইম প্লেট, গ্লাসসহ অন্যান্য অপচনশীল দ্রব্য যাবে নৌকা ছাড়ার আগেই তার একটি তালিকা করা হবে এবং নৌকা ঘাটে ফিরে আসার পর সবগুলো ফিরে এসেছে কিনা তা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য নৌকার মাঝিদের এবং পর্যটকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ, সহকারী কমিশনার ভূমি সৈয়দ আমজাদ হোসেন চৌধুরী, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সুবহান আখঞ্জি, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বুরহান উদ্দিন, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের সভাপতি শাহিনুর তালুকদার, তাহিরপুর নৌকার মাঝি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবিকুল ইসলাম, টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. মনির মিয়া তালুকদার।

সভার শুরুতে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা সাত দফা প্রস্তাবণা তুলে ধরেন। প্রস্তাবসমূহ হলো- প্লাস্টিকের বোতল ও অপচনশীল দ্রব্য নৌকা ঘাটসমূহে আসা ও যাওয়ার পথে গণণা করে হাওরে কোনো অপচনশীল দ্রব্য ফেলা হয়নি মর্মে নিশ্চিত করা, তাহিরপুর‌ ও মধ্যনগর নৌকা ঘাটে বড় ডাস্টবিন স্থাপন এবং প্রত্যেক নৌকায় ডাস্টবিন বিতরণ, পর্যটকবাহী নৌকার মাঝিদের ও গাইডদের পরিবেশ সম্মত পর্যটন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, নৌঘাট ও পর্যটন স্পটসমূহে পরিবেশ সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন, ইঞ্জিনচালিত যানে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে পদক্ষেপ গ্রহণ, টাঙ্গুয়ার হাওরে মৎস্য ও পাখির অভয়াশ্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন, টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় ব্যাপক ভিত্তিতে হিজল, করচ গাছ রোপণ ও সংরক্ষণ।

সভায় বক্তারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্যে যেভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তা রোধ করতে না পারলে অচিরেই হাওরটি একটি ভাগাড়ে পরিণত হবে। তখন পর্যটক ও আসবেন না। তাই টাঙ্গুয়ার হাওরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে এসে এর পরিবেশ সুরক্ষা করতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত