সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ নভেম্বর, ২০২০ ১৭:৪০

দক্ষিণ সুরমায় একটি পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জালালপুর ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামে একটি পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই পরিবারের চলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অমানবিক ও বেআইনি সিদ্ধান্তের কারণে পরিবারটি বন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন মোগলাবাজার থানার জালালপুর ইউনিয়নের সুনাম পুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আপ্তাব উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে আপ্তাব উদ্দিন বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে আমার ভাগনা সুনামপুর গ্রামের প্রবাসী নুরুল ইসলামদের সাথে, তাদের আপন চাচা তরমুজ আলী ও ফিরুজ আলীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে পুঁজি করে গ্রামের কিছু কুচক্রী মহল তাদের স্বার্থ চরিতার্থ চাচা ভাতিজার সম্পর্কে ফাটল ধরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি ওই মহল আমাদেরকে তাদের একপেশী সিদ্ধান্তের বলে পঞ্চায়েতের বাদ (এক ঘরে) করে রেখেছে। কুচক্রিমহলের ফাঁদে পা দিয়ে তরমুজ আলী এবং তার ছেলে ও ভাই-ভাতিজা মিলে আমার ভাগনা প্রবাসী নুরুল ইসলামের পরিবারের প্রতি বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন চালাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বছর আগে তরমুজ আলী তার পাড়া প্রতিবেশীকে নিয়ে আমার ভাগনা প্রবাসী নুরুল ইসলামের ছোট ভাই ফখরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও আমার উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সময় তাদের হামলায় আমরা অনেকেই আহত হয়েছিলাম। তরমুজ আলী গংদের ভয়াবহ আক্রমণে আপ্তাব উদ্দিনের হাত এবং প্রবাসী নুরুল ইসলামের দুই ভাইয়ের পা ভেঙে রক্তাক্ত জখম হয়। উক্ত হামলার পর আহত আমরা তিনজনই ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নেই।

আপ্তাব উদ্দিন বলেন, পরবর্তীতে মেডিকেল ছাড়পত্র নিয়ে আমি তরমুজ আলী গংদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। বর্তমানে উক্ত মামলাটি উঠিয়ে আনতে গ্রামের কতিপয় লোক উঠেপড়ে লেগেছে। মামলার বাদী হিসেবে আমাকে নানা রকম ভয় ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এমনকি প্রাণে মারারও হুমকি প্রদান করে। মামলা না তোলায়, গত ১২ অক্টোবর গ্রাম্য পঞ্চায়েত বৈঠকের মাধ্যমে আমাদেরকে এক ঘরে বা পাঁচের বাদ করেন কতিপয় লোক। যার মূল ভূমিকায় ছিলেন একই গ্রামের মৃত আরব আলীর পুত্র আজমান আলী, মৃত রইয়ব উল্লার পুত্র রেজান আলী, ছিফত উল্লার পুত্র আব্দুল হান্নান এবং মখন মিয়ার পুত্র জহির আলী। এছাড়া তরমুজ আলী আমাদের চলাচলের রাস্তায় বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছিনা। জরুরি কাজে এমনকি রোগী নিয়ে যানবাহন ডুকতে পারছেনা বাড়িতে।

তিনি বলেন, বিষয়টি দেখে দেয়ার জন্য আমি জালালপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার সুনামপুর গ্রামের বাসিন্দা সফিক উদ্দিনকে অবগত করি। কিন্তু সফিক মেম্বার কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো গত ১৩ অক্টোবর আমাকে এসে বলেন, ‘আজকের পর থেকে তোমরা তোমাদের জায়গা চিনিয়া হাঁটাচলা করবে। গ্রামের কারো সাথে মিশতে পারবে না।’ এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলেও ছিফত উল্লার পুত্র আব্দুল হান্নান আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

আপ্তাব উদ্দিন আরও বলেন, এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে স্বাধীনভাবে চলার অধিকার আমাদের রয়েছে। অথচ গ্রামের কতিপয় দুষ্ট প্রকৃতির মানুষের কারণে আমাদের জীবন আজ বন্দিশালায় পরিণত। পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা মহা বিপাকে রয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে আপ্তাব উদ্দিন এ ধরনের অমানবিক কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একঘরে বন্দী জীবন থেকে মুক্ত করতে সিলেটের জেলা প্রশাসক, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মোগলাবাজার থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত