সিলেটটুডে ডেস্ক

০৫ নভেম্বর, ২০১৫ ২২:১১

জন্মের পর প্রথম ৬ মাসে মায়ের দুধ পাচ্ছে ৫৫ শতাংশ শিশু

ব্র্যাক ও বিবিএফ’র জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় তথ্য প্রকাশ

বাংলাদেশের ৫৫ শতাংশ শিশুকে জন্মের প্রথম ৬ মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান করানো হচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী সে হার ৯০ শতাংশ হওয়া উচিত। যেসব শিশু জন্মের প্রথম ৬ মাস শুধু মায়ের দুধ পান করেছে তাদের তুলনায় যারা মায়ের দুধ পান করেনি তাদের মৃত্যু ঝুঁকি ডায়রিয়া জনিত কারণে প্রায় ১৪ গুণ, নিউমোনিয়ায় ৩.৫ গুণ এবং অন্যান্য সংক্রমণের দ্বারা ২০৫ গুণ বেশি।

বৃহস্পতিবার ‘চাইল্ড নিউট্রিশন বিএমএস অ্যাক্ট-২০১৩’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের ওয়ার্কশপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সিলেট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপের আয়োজন করে ব্র্যাক ও বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন।

সিলেটের সিভিল সার্জন মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, নবাগত শিশুদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে না পারলে আগামী প্রজন্ম একটি দুর্বল প্রজন্মে পরিণত হবে। এজন্য জন্মের পরপরই শিশুরা যাতে মায়ের শাল দুধসহ অন্তত দুই বছর মায়ের বুকের দুধ পান করে, সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। বাজার শিশু খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সিনিয়র হেলথ এডুকেশন অফিসার সুজন বণিকের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি বিভাস চন্দ্র তরফদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটের সিনিয়র এডিশনাল এসপি ফারুক আহমদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি একেএম শমিউল আলম।

 মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের এডবোকেসী ফর সোসিয়াল চেঞ্জ প্রকল্পের সিনিয়র সোসিয়াল কমিউনিকেটর মোঃ. ময়নুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায়, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাজিয়া বেগম, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর  স্নিগ্ধেন্দু সরকার, কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সিলেটের সভাপতি জামিল চৌধুরী, সিলেট সিটি শপ ওনার্স এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ. আব্দুল হাদি পাভেল, আইনজীবী ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, জাতীয় আইনজীবী সমিতি সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি হাবীব আহমদ শিহাব প্রমুখ।

 প্রোগ্রাম ব্রিফিং করেন ব্র্যাকের নিউট্রিশনের ক্লাস্টার ম্যানেজার মোঃ. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় অফিসার মোঃ. সাকিব। ব্র্যাকের পক্ষে অনুষ্ঠানের সমন্বয় করেন মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন বাস্তবায়ন প্রকল্পের সোশ্যাল কমিউনিকেটর আবদুল্লাহ আল মামুন।

মূল প্রবন্ধে ব্র্যাকের এডবোকেসী ফর সোসিয়াল চেঞ্জ প্রকল্পের সিনিয়র সোসিয়াল কমিউনিকেটর মোঃ. ময়নুল ইসলাম বলেন, বিশ্বে ১৩৫ মিলিয়ন শিশুর মধ্যে ৫২ মিলিয়ন শিশু পর্যাপ্ত খাবার পায়। ২০০৪ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৫১ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টিতে ভূগত, ২০১৪ সালে সে হার কমে ৩৬ শতাংশে নেমেছে। সকলের আন্তরিকতা থাকলে এ হার আরও কমে আসবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত