নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০৫

সর্বোচ্চ শাস্তিই এ ধরণের বর্বরতা বন্ধ করতে পারে: রাজনের রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত

রাজনকে হত্যার ঘটনাটি 'মধ্যযুগীয় বর্বরতার' সাথে তুলনা করেছেন বিচারক। রবিবার দুপুরে আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়ে বিচারক আবকর হােসেন মৃধা উল্লেখ করেন, কেবল সর্বোচ্চ শাস্তিই এই ধরণের নির্মমতা বন্ধ করত পারে।

রবিবার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৩ আসামীর মধ্যে ৪ জনকে ফাঁসি, একজনকে যাবজ্জীবন, তিনজনকে সাত বছরের কারাদন্ড, দুই জনকে এক বছরের কারাদন্ড ও ৩ জনকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

৭৬ পৃষ্ঠার ২৮১০ লাইনের রায়ে বিচারক লিখেন, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের সাক্ষরদাতা দেশ বাংলাদেশ। শিশুর প্রতি নির্মমতা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কাজ না করতে আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ। শিশু অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়লেও আমরা সাধারণ আদালতে তার বিচার করতে পারি না। শিশুকে আটক করা হলেও তার হাতে হাতকড়া কিংবা কোমড়ে দড়ি পড়ানোও যায় না। এমন অবস্থায় দেশে এরকম একটি ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, এই ঘটনা (রাজন হত্যা) আমাদের মধ্যযুগীয় বর্বরতার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমরা কিছুতেই সেই বর্বরতার যুগে ফিরে যেতে পারি না। যে নির্মম কায়দায় রাজনকে নির্যাতন করা হয়েছে তা বিশ্বের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। এই ধরণের আচরণ এই মূহূর্ত থেকে বন্ধ করা উচিত।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, নির্যাতনের সময় রাজন পানি খেতে চেয়েছিলো। তাকে পানির বদলে ঘাম খেতে বলা হয়েছে। নর্দমার ময়লা পানি খাওয়ানো হয়েছে। এমন ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ঘৃণা ও নিন্দার ঝড় ওঠেছে।

রায়ে বিচারক আকবর হোসেন মৃধা উল্লেখ করেন, আমি মনে করি একমাত্র সর্বোচ্চ শাস্তিই এই ধরণের বর্বরতা বন্ধ করতে পারে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত