তাহিরপুর প্রতিনিধি

১৩ মে, ২০২১ ১৯:১৪

তাহিরপুরে শেষ মুহুর্তে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা

শুক্রবার মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।  ঈদ উপলক্ষ্যে শিশুসহ সকল বয়সী নারী পুরুষ করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ভিড়ছেন নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ, কসমেটিক ও বিভিন্ন প্রসাধনী কিনতে দোকানে দোকানে। হাওরাঞ্চলে  ফসল ঘরে তোলার পরপরই ঈদ আসায় ক্রেতাসাধারণের মাঝে অন্যরকম আনন্দ দেখা দিয়েছে। ফলে পছন্দের জিনিসটি কিনতে বিপনী বিতানসহ দোকানগুলোতেও ভিড়ে ঠাসা মানুষ।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে ফুরফুরে মেজাজে ঈদ কেনাকাটা সারছেন কৃষিজীবীসহ নানান শ্রেণি পেশা মানুষেরা। আর ক্রেতাদের তুষ্ট করতে দম ফেলার ফুরসত মিলছে না বিক্রেতাদের। তবে উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সেখানকার শ্রমিকের মাঝে ঈদের আনন্দ নেই বললেই চলে।

স্থানীয়রা বলছেন, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের দামও অন্য বছরের চেয়ে বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে হাওরপাড়ে এই সময়ে রীতিমত উৎসবের আমেজ। আর ঠিক সেই মুহূর্তে এসেছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাই ফুরফুরে মেজাজে ঈদ আনন্দে কেনাকাটায় কৃষক পরিবার গুলো বাজার চষে বেড়াচ্ছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সী মানুষ। দরদাম করে যে যার সাধ্যমতে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের জিনিস। তবে যাদুকাটা নদীতে গত এক বছরের বেশী সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের পরিবারে আনন্দ ফিকে হয়ে আছে কারন তাদের হাতেন এখন টাকা নেই।

উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত বাদাঘাট বাজার ঘুরে দেখাগেছে বিক্রেতাদের দম ফেলার সময় নেই। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই খোশ মেজাজে আছেন। কেউ কেনাকাটা, কেউ বেচাবিক্রিতে মহাব্যস্ত। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে হাটবাজার ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ঈদ কেনাকাটা সারতে আসা লোকজনের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি।

উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার বোরো ধানের ভাম্পার ফলন হয়েছে। এবার ধানের দাম ও মোটা মোটি ভাল। হাতে টাকা আছে তাই পরিবারের সবার জন্য বাজার করতেও ভালো লাগছে। এবারের ঈদ আনন্দেই কাটবে হাওর পাড়ের সকল কৃষকের।

বাজার করতে আসা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাঠাবুকা গ্রামের আমির উদ্দিন বলেন, এবারের বৈশাখী খুব ভালো হয়েছে। ধানের দাম ভালো হওয়ায় এবারকার ঈদের কেনাকাটায় কারও কৃপণতা নেই। সবাই মনের আনন্দেই কেনাকাটা করছেন। এই আনন্দের কাছে করোনা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।

বাজারের সোহাগ বস্ত্রবিতানের স্বত্বাধিকারী মোঃ সোহাগ মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ক্রেতাসাধারণের উপস্থিতি ভালই। তবে আমরা সকল ব্যবসায়ীরাই যাদুকাটা নদীর শ্রমিকদের বড় একটা অংশ বেচা কেনায় অংশ নেয় এবার কাজ বন্ধ থাকায় তা নেই। আর করোনার কারনে বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে।
 
বাদাঘাট বাজারের অঙ্গশোভা ফ্যাশনের মালিক কবির ভূঁইয়া বলেন,মনের আনন্দে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিচ্ছেন। তবে আমাদের বেচাকেনা আর ভাল হত যদি যাদুকাটা নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলন কাজ করতে পারত শ্রমিকরা। কারন এই শ্রমিকদের উপর আমরা বেশী নির্ভরশীল। তাই তুলনা মুলক ভাবে বেচাকেনা কম।

তাহিরপুর বাজারে ব্যবসায়ী সাদেক আলী বলেন, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরীব মানুষেরা নির্দিষ্ট উপলক্ষ ছাড়া বাজার-সদাই করেন না। বাজারে মানুষের উপস্থিতি ভালো, বেচাবিক্রিও মোটামুটি। ভালোভাবে ফসল ঘরে উঠায় এ বছর মানুষের পকেটে টাকা আছে। সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাজারে আসছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত