২২ জুন, ২০২৬ ২১:২৯
সিলেটের জাফলংয়ের খাসিয়া পুঞ্জিতে পানি অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন বিষয়ক এক বিশেষ মতবিনিময় ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৮ জুন অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের শিরোনাম ছিল "জল আছে, জীবন নেই : হারিয়ে যাওয়া খাসিয়া পুঞ্জির গল্প"। স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ ও যুব প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালাটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন আইইউসিএন (IUCN)-এর স্টোরিটেলার ফেলো সাগর শীল। তিনি বরাক-মেঘনা অববাহিকায় উজানের পরিবেশগত সংকট, পাথর উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী 'পান জুম' কৃষির ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান (Nature-Based Solutions) ও বায়ো-ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই সম্প্রদায়ের টিকে থাকার সংগ্রাম এবং পুনরুদ্ধারের চিত্র তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নকশিয়ারপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সীমা রিম্বা। তিনি জানান, শুকনো মৌসুমে পুঞ্জিতে পানির পাম্প থেকেও পানি ওঠে না — ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে পুঞ্জির ভেতরে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে গর্ত খনন করে পানি ধরে রাখতে হয়। এই সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তির পথ হিসেবে তিনি গভীর নলকূপ স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল জলবায়ু ও নদী ব্যবস্থাপনা নীতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে তুলে ধরা এবং আন্তঃসীমান্ত পানি সুরক্ষায় তাদের অধিকার ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।
আপনার মন্তব্য