২২ জুন, ২০২৬ ১৪:১৯
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন ব্যানারে ডিসি অফিস ও আশাশের এলাকায় বিক্ষেভ করা হচ্ছে।
এদিকে, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার নিয়ে ডিসি সারওয়ারের পদক্ষেপের প্রতিবাদে সিলেটের ৬৭ নাগরিকের নমে বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে মাজারের ‘ঐতিহ্য ধংস করে’ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের নিন্দা জানানো হয়।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জো পশাসক পদ থেকে প্রতাহার কর মন্তণালয়ের উপ সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এরআগে গত বছরের আগস্টে সিলেটের সাদাপাথর লুট নিয়ে তুলপাড়ের মুখে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। মাত্র ১০ মাসের মাথায় তাকে প্রত্যাহার করে নেয়ো হলো।
তার এই হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রোববারই ‘সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন হয়।
সোমবারও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বন্দরবাজার কোর্ট পয়এন্টর সামনে বিক্ষোভ করা হচ্ছে। ‘সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ’, সিলেটের যুব সমাজ’, সিলেটের সচেতন তরুণ’ এরকম নানা ব্যানারে বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষিভ কর্মসূচীগুলোতে বিভিন্ন বয়সী লোকজন ও বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এইসব বিক্ষোভ থেকে ‘ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার মানি না, মানবো’, ‘সিলেটবাসীর দরকার, ডিসি সারওয়ার’ এরকম বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসক সিলেটে দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সিলেটবাসীর বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার কণ্ঠস্বরকে থামাতেই ডিসিকে বদলি করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটই তাঁকে সিলেট থেকে সরাতে আড়ালে কাজ করেছে।
এদিকে, সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় এসব বিক্ষোভকারীদের সাথে করমর্দন করেন সারওয়ার আলম। বিক্ষোভকারীারা স্লোগান দিয়ে দিয়ে তাকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে যান। দুপুরে নিজ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে যোহরের নামাজ পড়তে যান সারওয়ার আলম।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের কিছু উদ্যোগ আলোচিত-সমালোচিত হয়। এছাড়া একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠির সাথে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।
মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ
এদিকে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ৬৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। রোববার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিবৃতিতে মাজারে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ঐতিহ্য ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দরগাহে এ ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ স্বাধীন বাংলাদেশে অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এই ঘটনা দরগাহ ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী একটি বিশেষ মহলের অভিসন্ধি পূরণে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা জনমনে তীব্র সংশয় ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে সই করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসেন, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম, প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেদানন্দ ভট্টাচার্য প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য