১৯ জুন, ২০২১ ১৩:২০
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। দায়সারা কাজ করা অভিযোগে তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এলাকাবাসী।
জানা যায়,বানিয়াচং সদরের ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের গরীব হোসেন মহল্লা চৈরারপাড় জামে মসজিদের সামনে হতে হাজী জালাল উদ্দিনের এর বাড়ির সামন পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ টাকার সিলেট বিভাগের গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের ওই রাস্তা নির্মাণে কাজ পায় শেখ সেলিম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে এই ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ কিনে নিয়ে আসে বানিয়াচংয়ের আরেক ঠিকাদার সেলিম মিয়া।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চৈরারপাড় মসজিদের সামন হইতে হাজী জালাল উদ্দিনের বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত ছিল ইট সলিং করা। উক্ত রাস্তার ইট উঠিয়ে ঠিকাদার সেলিম মিয়া তার শ্রমিকদের দিয়ে রাস্তার বক্স করেছে ১৮ ইঞ্চি। বর্তমানে যে রাস্তার এজিং করেছে তা আগের রাস্তার ইট সলিং থেকে ৬ ইঞ্চি নিচে রয়েছে এবং এজিংয়ের সাইটে মাটি না ভরাট করেই কাজ শুরু করেছে শ্রমিকরা। ফলে হালকা বৃষ্টিতে সেই এজিং ভেঙ্গে পড়ে গিয়েছে।
রাস্তা নির্মাণে শিডিউল মোতাবেক ১৮ ইঞ্চি কংক্রিট ও বালি দিয়ে পূর্ণ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার কোনো কোনো জায়গায় ১২ থেকে ১৩ ইঞ্চি কংক্রিট ও বালি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী এই কাজ না হওয়ায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে সেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। রাস্তার কাজ বিগত ২০১৯ সনের শেষ দিকে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার কোম্পানি। এদিকে অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী ও উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।
কাজের অনিয়মের বিষয়ে এলাকাবাসী খেলু মিয়া জানান, রাস্তার কাজের দুই নাম্বার হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী মিলে সেই কাজ বন্ধ করতে বলেছি। বিষয়টি বারবার উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে জানালেও তিনি আসি আসি করে আর কাজের সাইটে আসেননি।
মতিউর রহমান নামে আরেক এলাকাবাসী জানান, এই রাস্তার মধ্যে বালু আর কংক্রিটের যে মিশ্রণ দিয়েছে সেটা খুব নিম্নমানের। আমাদের দাবি যেন শিডিউল মোতাবেক রাস্তার কাজটা হয়।
এই বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা প্রকৌশলী মিনারুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে দেয়া হয়েছে সেটা জানতে পেরেছি। আর সেটার অনুলিপি আমাদের কার্যালয়েও পাঠিয়েছে। বিষয়টা সরেজমিনে গিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, একটা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে বলে দিব।
আপনার মন্তব্য