নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জুন, ২০২১ ০০:১৮

পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন আলিমা বেগম

সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই সন্তানসহ খুন হওয়া আলিমা বেগম (৩০) ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত বুধবার নিজ ঘরের ভেতর থেকে আলিমা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাদের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, খুন হওয়ার সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন আলিমা। ফলে তিনজন নয়, ওইদিন খুন করা হয় মূলত চারজনকে।

এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে আলিমার স্বামী হিফজুর রহমানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

শনিবার দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের হিফজুর রহমানের স্ত্রী নিহত আলিমা বেগম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে আমরা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি। ঘাতকের বটির কোপে তার গর্ভে থাকা পাঁচ মাসের সন্তানও মারা গেছে। সে হিসেবে এ ঘটনায় চারজন মারা গেছেন। আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ভ্রূণহত্যার অভিযোগও আনব।’

গত বুধবার সকালে গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে হিফজুরের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০), তার দুই সন্তান মিজান (১০) এবং তানিশা (৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘর থেকেই হিফুজরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এরপর থেকে হিফজুর পুলিশ প্রহরায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার আচরণ প্রথম থেকেই সন্দেহজনক বলে জানিয়েছিলো পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া আলিমার স্বামী হিফজুর রহমান

ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলো সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এবং বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এখন পুলিশের সন্দেহের তীর আহত হিফজুরের দিকেই।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমাদের সব তদন্তে প্রমাণ করে ঘটনার রাতে বাইরে থেকে কেউ ঘরে প্রবেশ করেনি। আলিমার স্বামী হিফজুরের রহস্যজনক আচরণ ও ওইদিন রাতে তিনজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে এই ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত বলে আমরা সন্দেহ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদকালে হিফজুর নিজেকে মানসিক রোগী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছে। আমরা ঘটনার রাতে কী ঘটেছিল ঘরের মধ্যে জানতে চাইলে সে পুলিশকে জানিয়েছে, ওই রাতে তার ঘরে সে প্রচুর মাছ কেটেছে বটি দিয়ে। এ সময় তার বাসায় স্ত্রী ও সন্তানদের রক্তাক্ত শরীর পড়েছিল বলেও স্বীকার করেছে। তবে কে তাদের গলা কেটেছে জানতে চাইলে কোনো কথা বলছে না। রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সবকিছু খোলাসা হবে বলে আশা করছি।’

পেশায় দিনমজুর হিফুজর তার মামার বাড়িতে ঘর বানিয়ে থাকেন। তার বাড়ি পাশ্ববর্তী গ্রামে। হিফজুর যে ঘরে থাকতেন ওই ঘরটি তার মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত।

বুধবার সকালের ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠছিলেন না হিফজুরের পরিবারের সদস্যরা। দেরি দেখে প্রতিবেশিরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। এসময় ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা দেন তারা।

প্রতিবেশিরা জানান, দরজার সিটকিনি খোলাই ছিলো। ভেতরে প্রবেশ করে খাটের মধ্যে তিন জনের জবাই করা মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে পুলিশে খবর দিলে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করেন এবং হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত