২০ জুন, ২০২১ ১৯:২৯
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন শেষে এই অভিযোগ করেন।
শনিবার (১৯ জুন) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইউএনও নির্মাণাধীন ভবনগুলো ঘুরে দেখেন।
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়, হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়, তালিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মাইজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয়।
এরআগের দিন শুক্রবার ইউএনও উপজেলার আরও চারটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অপরদিকে উপজেলার রহমানিয়া ও পাল্লাথল চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের কাজের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এগুলোর কাজ এখনো অর্ধেকও হয়নি।
বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ও শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী নির্মাণাধীন বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তার সাথে ছিলেন বড়লেখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
ইউএনও জানান, তালিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাদের কিউরিং ঠিকমতো হয়নি। ছাদের প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে। বাথরুমের ফিটিংস নিম্নমানের। শ্রেণী কক্ষেও ডেস্ক-বেঞ্চ নিম্নমানের কাঠ লাগানো হয়েছে। শ্রেণীকক্ষের স্মাট বোর্ড ব্যবহার অনুপযোগী। হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়ে বালু মিশ্রিত মাটি দিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। ভবনের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করতে দেখা গেছে। শ্রেণীকক্ষে মোজাইক কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। কাঠলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে কাজের সাইটে নিম্নমানের ইট পাওয়া গেছে। পূর্বে নির্মিত ভবনে কিছুস্থানে ফাটল দেখা গেছে। মাইজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাইটে নিম্নমানের ইট পাওয়া যায়। ভবনের কাজের কিউরিং ঠিক মতো হয়নি। টেকাহালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে কিউরিং ঠিকমতো হয়নি। বাথরুমের ফিটিংস নিম্নমানের। মটর ও পানির ট্যাংক বিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়নি। শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
এদিকে গুণগত মান যাচাই করতে তালিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্লাস্টারের নমুনা ও শ্রীধরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাথরের নমুনা সিলগালা করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন রোববার (২০ জুন) বিকেলে বলেন, ‘যেসব ত্রুটি পাওয়া গেছে এগুলো সংশোধনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকাদারদের পূর্বেই বলা হয়। তারা সংশোধন করে দেবেন বলেছেন। কিছু সংশোধন কার্যক্রম চলছে। কয়েকটি ভবনের কাজ চলমান আছে। সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিপ্তরের আওতাধীন তিনটি বিদ্যালয়ের কাজের তদারক কর্মকর্তা ফাতেয়া ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনার কারণে শ্রমিক সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানের কাজে বিলম্ব হয়েছে। সময় বাড়িয়ে এগুলোতে কাজ করা যাবে। সুযোগ আছে। অন্য প্রতিষ্ঠানে চলমান কাজ আছে। পাথরের যে ত্রুটি পাওয়া গেছে এগুলো আগেই ঠিকাদারকে সরাতে বলা হয়েছিল। নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান যাচাই করেই আমরা কাজ করাচ্ছি। মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন, ‘শনিবার ৮টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। এরমধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠানে ভবনের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও বেশকিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় নিম্নমানের ইট পাওয়া গেছে। ইটসহ সকল নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বলা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্লাস্টার ও পাথরের গুণগত মান যাচাই করতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো সিলগালা করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। কাজের মনিটরিংয়ের দুর্বলতা আছে। এজন্য ত্রুটি পাওয়া গেছে। দরপত্রের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী প্রত্যেক ভবনের যাবতীয় কাজ যথাযথ না হলে ঠিকাদারদের বিল না দিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করা হবে।’
আপনার মন্তব্য